পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, কাদা মেশানো পাথর দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে ব্রিজ

সোহেল তালুকদার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউসকান্দি আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কাদামাটি মেশানো পাথর দিয়েই ঢালাই করা হচ্ছে ব্রীজ। জানা যায়, ২টি প্যাকেজে পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউসকান্দি আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে মোট ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি ব্রীজের নির্মাণ কাজ পেয়েছে এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার লি.।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাগলা-জগন্নাথপুর-রানীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দরগাপাশা আব্দুর রশিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে গমিনখালি খালের উপরে কাদামাটি মেশানো পাথর দিয়ে ব্রীজের (এবার্ট মেন্ট এর ভিত্তি) ঢালাই করা হচ্ছে। সেই সাথে নি¤œ মানের বালি ব্যবহার করতে দেখা যায়।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আব্দুর রউফ জানান, এসবের কিছুই আমি জানি না, আমার সাথে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আছেন উনি বলতে পারবেন। তবে পাথরে পানি ছিটানো হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাথরে কোন মাটি মেশানো নয়। আমরা উন্নত মানের পাথর ও বালি ব্যবহার করছি। তখন সাংবাদিকরা ঐ কর্মকর্তার সামনে হাতে পাথর নিয়ে দেখালে তিনি বলেন পাথরে এটা থাকবেই তবে পানি ছিটানো হচ্ছে।
এম এম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার লি. এর প্রজেক্ট ম্যানেজার হারুন অর রশীদ বলেন, পাথরে কোন মাটি মেশানো নয়, এটা পাথরের ডাস্ট, এটা দিয়ে ঢালাই করলে কোন সমস্যা নাই। তবে যে জায়গা থেকে পাথরগুলো আনা হয়েছে তাদের পাথগুলো ধুয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা না ধুয়ে সাপ্লাই দিয়েছেন। আমরা পাথরে পানি ছিটাচ্ছি। এ কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। পরে ঐ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিউজ না করার জন্য বিভিন্নভাবে অনুরোধ করেন।
দরগাপাশা গ্রামের আবু খালেদ চৌধুরী রুবেল জানান, মাটি মেশানো পাথর দিয়ে ব্রীজ ঢালাই দেওয়া হচ্ছে বলে আমরা দেখেছি। ঠিকাদারের লোকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান পাথর ধুয়ে লাগানো হচ্ছে। অথচ আমাদের সামনেই কাদা মেশানো পাথর ও বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন অনিয়ম এই কাজে হলে এই কাজ টেকসই হবে না।
দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির উদ্দিন বলেন, ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামত নি¤œমানের বালি পাথর ব্যবহার করে কাজ করছেন। আমি নিজে গিয়ে পাথরে মাটি মেশানো দেখে এই পাথর ব্রীজের ঢালাই কাজে না লাগানোর জন্য বলেছি। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আমার কথায় কর্ণপাত করেননি। আমরা মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি মহোদয়কে বিষয়টি জানাবো।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বার বার চেষ্টা করলে উনাকে পাওয়া যায়নি।