পাচারকারী চক্রের তালিকা তৈরি করছে পুলিশ/দুই পাচারকারী গ্রেপ্তার

স্টাফ রিপোর্টার
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সুনামগঞ্জের গ্রামাঞ্চলের নিরীহ ও বেকার যুবকদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। গত ১৬ জুন পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পরে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে এক তরুণের মৃত্যু ঘটেছে। ২৯ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ওই তরুণের লাশ দেশে আসে। ৩০ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর থানা পুলিশ নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে এবং ওইদিনই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়।
পরে নিহত তরুণ একওয়ান ইসলামের বাবা তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩ অক্টোবর জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রবিবার এই মামলার দুই আসামী আবুল মিয়া ও আসমা বেগমকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার এই বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি এটিএম কার্ড ও দুটি ব্যাংকের চেক বই, একটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ জানান, মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ, কঠোর অ্যাকশনে যাবে। জেলাজুড়ে পাচারকারীদের তালিকা তৈরির কাজ হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ জানান, জগন্নাথপুরের নিহত তরুণ একওয়ান ইসলামের বাবার দায়ের করা মামলার অন্য আসামী আলী হোসেন (২৫), সালেহ আহমদ (৪৫) কেও পুলিশ খুঁজছে। তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের দ্বারা অন্য কেউ প্রতারিত হলেও পুলিশকে জানানোর অনুরোধ জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।