পাটলাই নদীতে দীর্ঘ নৌজট

আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার পাটলাই নদীতে ৫ কিলোমিটার নৌ-জট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে কয়লা চুনাপাথর ব্যবসায়ীরা। দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার স্থল শুল্কষ্টেশন বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক ষ্টেশন থেকে পাটলাই নদীপথে দেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লা ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে চুনাপাথর সরবরাহে ব্যবহৃত সহস্্রাধিক ইঞ্জিন চালিত নৌকা দীর্ঘ নৌজটের কারণে আটকে পড়ে থাকছে প্রতিদিন।
উপজেলার মাটিয়ান হাওর সংলগ্ন হাঁসমারা বিল থেকে পাইকরতলা নদীর ৫ কিলোমিটার নৌপথের দুই তীরে গত ২০ দিন ধরে এ অবস্থা বিরাজ করছে। নদীতে প্রতিদিন সিরিয়াল নিয়ে গড়ে ২০টি নৌকা জট থেকে বের হচ্ছে। আর বিপরীতে ৩০/৩৫টি নৌকা এসে পেছনে যোগ হচ্ছে।
জানা গেছে ঢাকা, সাভার নারায়নগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী
চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, দাউদকান্দি, ভৈরব, টাঙ্গাইল সিরাজগঞ্জ, বাগাবাড়ি, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশের বিভিন্ন ইটভাটায় কয়লার মোকাম ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে চুনাপাথর সরবরাহের জন্য বড়ছড়া,চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক ষ্টেশন থেকে ছেড়ে আসা কোটি কোটি টাকার কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই নৌকাগুলো উপজেলার সুলেমানপুর পাটলাই নদীতে নৌজটে আটকে পড়ে থাকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের হাঁসমারা বিলের দক্ষিণ দিক থেকে সুলেমানপুর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পাইকরতলা, ইকরদাইর, ফুকরার খালের দুই পাশে নোঙর করে সারিবদ্ধভাবে বসে আছে প্রায় সহস্্রাধিক কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই ইঞ্জিন চালিত নৌকা। নৌকার মাঝি ও কয়লা চুনাপাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, মাঘ মাসের প্রথম থেকে চৈত্র মাসের ১৫তারিখ পর্যন্ত বিগত ১৫ বছর ধরে এই নৌ-জটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
কারণ হিসাবে তারা জানান, প্রতি বছর হেমন্তে পানি শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর গভীরতা ও প্রসস্ততা কমে যায়।
তারা জানান প্রশাসনের সহযোগিতায় পুলিশ বিজিবি তদারকি করলে এই নৌজট ২/৩ দিনের মধ্যে দূর হয়ে যেতো।
কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার নুহান নৌ পরিবহনের মাঝি মহসিন মিয়া বলেন, পাটলাই নদীতে নৌ-জটের কারণে ৩ দিনের নৌযান পরিবহনের কাজ ১৫ দিনে সারতে হয়। এতে করে তাদের লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
সরাইল উপজেলার আল্লার দান নৌকার মাঝি সামছু মিয়া বলেন, নৌ-জটের কারণে তারা ভয়ে রাত্রি যাপন করেন।
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ^জিত সরকার বলেন,পাটলাই নদীতে বিগত দিনের চেয়ে গত সোমবার সকাল থেকে নৌ-জট অনেক বেশী হয়েছে। আটকে পড়া নৌকাতে যেন কোন ধরনের চাঁদাবাজি না হয় এ ব্যাপারে তার ইউনিয়নের পক্ষ থেকে একটি শৃঙ্খলা কমিটি করে দিয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ওসি মুহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। নৌ-জট থেকে প্রতিদিন ১৫/২০টি ছাড়া পেলেও প্রতিদিন পেছন থেকে আরো ১৫/২০টি যোগ হচ্ছে। এ সমস্যা দূরীকরণে পাটলাই নদীটি খনন করা অতীব জরুরী।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী বলেন, পাটলাই ও পাইকরতলা নদীর তলদেশ পলিমাটিতে ভরাট হওয়ার কারণে এ নৌ-জটের সমস্যা দেখা দিয়েছে। নদী খনন হলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না।