পাঠদান শুরু’র আগেই শিক্ষক নিয়োগের দাবি

আসাদ মনি
জেলায় উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় হবে। তবে জেলার শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শিক্ষক সংকটের কারণে কাঙ্খিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নতুন হওয়া উচ্চ শিক্ষার এসব প্রতিষ্ঠানে জেলার শিক্ষার্থীরা সুবিধা করতে পারবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগেই শিক্ষক নিয়োগ জরুরি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে জেলায় একসঙ্গে ৯ টি কলেজকে সরকারিকরণ করা হয়। নতুন এই ৯ টি সরকারি কলেজের মধ্যে রয়েছে তাহিরপুর উপজেলায় বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, ছাতক উপজেলায় ছাতক ডিগ্রি কলেজ, জগন্নাথপুর উপজেলায় জগন্নাথপুর ডিগ্রি কলেজ, ধর্মপাশা উপজেলায় ধর্মপাশা ডিগ্রি কলেজ, জামালগঞ্জ উপজেলার জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রি কলেজ, দিরাই উপজেলায় দিরাই ডিগ্রি কলেজ, শাল্লা উপজেলায় শাল্লা ডিগ্রি কলেজ, দোয়ারাবাজার উপজেলায় দোয়ারাবাজার ডিগ্রি কলেজ।
এই কলেজের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, কলেজগুলোতে আগেই জনবল সংকট ছিলো। ২০১৬ সালের পরে অনেক শিক্ষক কর্মচারী অবসরে গিয়েছেন। ফলে তাদের পদগুলো এখন শূন্য রয়েছে। সরকারি নানা জটিলতার কারণে নতুন পদ তৈরি এবং যে পদগুলো শূণ্য রয়েছে সেগুলোতে নিয়োগও হচ্ছে না। এসব পদে নিয়োগ না হলে হাওরবাসী তাদের কাঙ্খিত ফল পাবে না।
এদিকে, জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম সংকট নিরসনের জন্য নতুন ভবন হয়েছে। তবে সেটা যথেষ্ট নয়। রয়েছে শিক্ষক সংকট। ৫০ জন শিক্ষকের পরিবর্তে রয়েছেন ৪২ জন। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছেন ৫০ শিক্ষক দিয়ে একটি উচ্চ মাধ্যমিক, অনার্স মাস্টার্স কলেজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অনার্সের প্রতি বিভাগের জন্য ৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন। পদ রয়েছে ৪ জনের। এছাড়াও মাস্টার্সের জন্য আরো ৪ জন করে শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু মাস্টার্সের শিক্ষকের কোনো পদ নেই এই কলেজে।
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে সরকারিকরণের সময় ১৫ টি পদ ছিলো। সরকারিকরণের প্রায় ২৫ বছরেও আর কোনো পদ তৈরি হয়নি। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রীর যে প্যাটার্ন রয়েছে সে অনুযায়ী ৬৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন। আছেন মাত্র ১৪ জন। এই ১৪ জন শিক্ষক দিয়েই কোনোভাবে খুঁড়িয়ে খূঁড়িয়ে চলছে জেলা শহরের এই নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
তাহিরপুরের বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রী কলেজে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। ডিগ্রী’র ৬ টি বিষয় চালু আছে এই কলেজে। ২৪ জন শিক্ষক প্রয়োজন। সরকারি এই কলেজটিতে ৬ জন শিক্ষক ছাড়াই চলছে কার্যক্রম।
ছাতক সরকারি ডিগ্রী কলেজে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন তিন হাজার তিনশ। ২ টি বিষয়ে অর্নাস সহ ৮ টি ডিগ্রীর বিষয় রয়েছে। এই কলেজটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে মোট ৪৮ জন শিক্ষক প্রয়োজন। পদ রয়েছে ২৮ জন শিক্ষকের। এখন ২৪ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে এই কলেজটি।
শাল্লা সরকারি ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুজ শহীদ বলেন, আমাদের কলেজে মোট ১৫শ শিক্ষার্থী রয়েছেন। ৪ টি ডিগ্রীর বিষয় রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। প্রয়োজন ২৭ জন শিক্ষক। শিক্ষক সংকটের জন্য আমরা সুষ্ঠুভাবে ক্লাস পরিচালনা করতে পারছি না। মাঝে মাঝে খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে কলেজ চালাই।
জেলা সরকারি কলেজ শিক্ষক সমিতির (সকশিস) সভাপতি প্রভাষক মো. মশিউর রহমান বলেন, ৯ টি কলেজ সরকারি হয়েছে প্রায় ৪ বছর হলো। ২০১৬ সালে সরকারি পরিপত্রের মাধ্যমে এই কলেজগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা হয়। এই ৪ বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন, মারাও গেছেন। জামালগঞ্জ সরকারি কলেজে ৮ জন শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন। জটিলতার কারণে ইচ্ছে করলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেন না। এই কলেজগুলোতে বর্তমানে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।
কলেজগুলোতে আবাসন সংকটও শিক্ষক সংকটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে এই শিক্ষক নেতা বলেন, সরকারি কলেজেও আবাসন সংকটের জন্য শিক্ষক থাকেন না। যারা আসেন তারা চলে যান। মহিলা কলেজে এক সময় বিজ্ঞানের কোনো শিক্ষক ছিলো না। দু’একটা ব্যাচ শিক্ষক ছাড়া বের হয়েছে। এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খোলার আগেই জেলার সকল কলেজে শিক্ষক নিয়োগ জরুরি ।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিক্ষক সংকট হলে পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হবে জানি। সেজন্য এই সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেছি।