পাথর কুড়িয়ে জীবিকা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী থেকে বালি ও পাথর উত্তোলনে কর্মসংস্থান হয় অনেক জেলার ৫-৬ উপজেলার মানুষের। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয় এখানের বালি আর পাথর। জানা যায়, যাদুকাটা নদী থেকে প্রতিদিন শতশত ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বালি এনে জামালগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, ফাজিলপুর, ফতেপুর, মফিজনগর, ঘাগটিয়া গ্রামে সুরমা নদীর পাড়ে জমা করেন ব্যবসায়ীরা। আগে শ্রমিক দিয়ে বালি উত্তোলন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালি উত্তোলন করা হয়। ড্রেজার মেশিনের মোটা পাইপ দিয়ে বড় বড় নৌকা থেকে বালির ডাম্পে জমা করেন। আর জমাকৃত বালি থেকে পাথর কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বিভিন্ন বয়সী নারীরা।
পাথর কুড়ানো নারীরা জানান, অবসর সময়ে তারা পাথর কুড়ানোর কাজ করেন। পাথর কুড়ানোর আয় দিয়ে নিজেদের সংসারের খরচ মিটান। মহাজনরা তাদের কাছ থেকে প্রতি সেফটি পাথর কিনেন ৯০-১০০ টাকা দিয়ে। একজন নারী প্রতিদিন ৪ থেকে ৭ সেফটি পাথর কুড়াতে পারেন। তবে তাদের দাবি এই পাথর অন্য জায়গায় ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের মফিজনগর গ্রামের রিনা বেগম, মমিনা বেগম, জামেনা খাতুন বলেন, আমরা গরীব মানুষ, আমাদের কাজ করে খেতে হয়। তাই অভাবের তাড়নায় পাথর কুড়াতে এসেছি। পাথর কুড়িয়ে যা পাই তা সংসারে খরচ করি।
একই গ্রামের কিশোরী সরুফা বেগম জানান, বালির সাথে আমাদের স্বপ্ন লুকিয়ে আছে। সারাদিন পাথর কুড়িয়ে যা পাই তা দিয়ে নিজের হাত খরচ ও ছোট ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাই।
বালি ব্যবসায়ী এম আল আমিন বলেন, আমরা প্রতিদিন ফাজিলপুর কোয়ারী থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় বালি এনে মফিজনগর গ্রামের নদীর পাড়ে জমা করি। বালির সাথে বিভিন্ন ধরনের পাথর আসে। এই বালি ডাম্পে স্তূপ করার সময় বালিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাথর কুড়িয়ে বিক্রি করেন নারীরা। প্রতিটি ডাম্পেই ৫ থেকে ১০ জন নারী পাথর কুড়িয়ে থাকেন।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বলেন, আমার উপজেলার কয়েকশ’ নারী বালি থেকে পাথর কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবারের অন্যান্য কাজের ফাঁকে প্রতিদিন পাথর কুড়িয়ে কয়েকশ’ টাকা আয় করেন তারা।