পানিবন্দি পৌর এলাকা

স্টাফ রিপোর্টার
ভারী বর্ষণে পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও ড্রেনেজ সিস্টেমের বিপর্যয়ে শহরের মধ্যবর্তী এলাকার বাসিন্দরা দুর্বিসহ অবস্থায় পড়েছেন।
গত ২৪ ঘন্টার ভারী বর্ষণে শহরের সাহেববাড়ি এলাকা, কাজীর পয়েন্ট, উকিলপাড়া, পশ্চিমবাজার, মধ্যবাজার, মাছবাজার, সবজিবাজার, জামতলা, কালিবাড়ি রোড, পূর্ব-পশ্চিম নতুনপাড়া, হাজিপাড়া, জামাইপাড়া, আরপিননগর, সোমপাড়া, রায়পাড়া, মুক্তারপাড়া, ষোলোঘর পয়েন্ট, বড়পাড়া, জেলরোড, নবীনগরসহ একাধিক এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক সহ অনেক ঘরবাড়ি বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু সমান পানি হয়েছে। বসত ঘরের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন তারা। বিশেষ করে নি¤œ আয়ের মানুষেরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। অতিরিক্ত পানিতে তাদের পয়ঃনিষ্কাশন থেকে শুরু করে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য শুক্রবার দুপুর থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক জায়গায় পানি কমতে শুরু হয়।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায়, পানি নিষ্কাশিত না হতে পেরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। শহরের কাঁচা মালের ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ রেখেছেন। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে মানুষের দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বাঁধনপাড়ার বাসিন্দা ইমামুল হাসান টিপু জানান, আমাদের পাড়ার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ওঠেছে। হঠাৎ করে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ড্রেন দিয়ে পানি যাচ্ছে না। ড্রেনে জ্যাম লাগার কারণেই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা দিলোয়ার হোসেন জানান, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি আটকে আছে। ড্রেন দিয়ে যতটুকু পানি নিষ্কাশন হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়।
হাসননগরের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট প্রসেনজিৎ দে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্যই বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। উত্তর-পশ্চিম নতুন পাড়ার অনেক নিচু জায়গায় বাসাবাড়ি তৈরির জন্য মাটি ভরাট করা হয়েছে। এতে শহরের উঁচু এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়েছে। তিনি আরো বলেন. শহরের সবগুলো ড্রেন ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। সময় মতো পরিষ্কার করা হয় না। যখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তখন পরিষ্কার করা হয়। অনেক ড্রেনে মাটি জমে বন্ধ হয়ে গেছে। এজন্য জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
ষোলোঘরের বাসিন্দা আতিকুল, নূর আলম আহমেদ ও আব্দুল ওয়াহাদ জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে রাস্তাঘাটে পানি জমে আছে। ড্রেন দিয়ে পানি কমছে ,তবে খুব ধীর গতিতে। এই ড্রেনগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন।
তারা আরো বলেন, বনানীপাড়ার ১ নম্বর সড়কে কোনো ড্রেন নেই। রাস্তার পানি সরে গেলেও বনানীপাড়ার ১ নম্বর সড়কে পানি কমবে না। অল্প বৃষ্টিতেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পৌরকর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানান তারা।