পাহাড়ি ঢলে ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষতি

আকরাম উদ্দিন
পাহাড়ি ঢলে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মীরেরচর এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষানুরাগীরা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
চলতি বছরের পাহাড়ি ঢলে দলাই নদীর পানি উপচে উঠে মাদ্রাসার পূর্বদিকে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এই সময় যোগাযোগের মূল সড়ক সহ পার্শ্ববর্তী বাড়ি-ঘর, মাদ্রাসা এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রাসার বাউন্ডারী দেওয়ালের এক অংশ ভেঙে পড়েছে এবং অন্য অংশ ঝুঁকিতে আছে। মাদ্রাসার উত্তর ও দক্ষিণ দিকের ভবনের কিনার ঘেঁষে মাটি সরে গেছে। মাদ্রাসার দুইটি ভবনের ৪টি শ্রেণী কক্ষের ফ্লোর নষ্ট হয়ে গেছে। প্রবেশ গেইট ও ভেঙে গেছে। এছাড়া মাদ্রাসার আঙিনায় মাটি ভরাট নেই। মাদ্রাসার পশ্চিম, উত্তর এবং পূর্ব অংশে বাউন্ডারী দেওয়াল নেই। ভালমানের ওয়াস ব্লক নেই, নিরাপদ পানির গভীর নলকূপ নেই।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, শিক্ষক ১৬ জনের মধ্যে আছেন ১৩ জন। দুইজনের পদ শূন্য। শিক্ষার্থী ৬৩০ জন। মাদ্রাসায় শিক্ষার মান ভাল আছে। ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। মাদ্রাসা এমপিওভূক্ত হয় ১৯৭৫ সালে। বর্তমানে মাদ্রাসায় ভূমির পরিমাণ রয়েছে ৩ একর ৭২ শতাংশ। মাদ্রাসায় ৪টি একাডেমিক ভবন, ১টি ছেলেদের ও ১টি মেয়েদের নামাজ পড়ার টিনশেড ভবন রয়েছে। এই দুই ভবনের টিনের ছাউনিতে বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছিদ্র রয়েছে। বৃষ্টিপাতের সময় নামাজ আদায় করতে সমস্যা হয় সকলের।
মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আজহার উদ্দিন ও ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর ইলমা আক্তার বলেন,‘আমাদের মাদ্রাসায় আলাদাভাবে পাকা ওয়াস ব্লক নেই। মাদ্রাসায় একটি গভীর নলকূপের জরুরি প্রয়োজন।’
মীরেরচর গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের মাও. আব্দুল মান্নান বলেন,‘ইয়াকুবিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতে প্রথম উদ্যোগ নেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী। তাঁর অর্থায়নে শুরু হয় মাদ্রাসার কার্যক্রম। প্রায় ৬০ বছর ধরে শত শত শিক্ষার্থী এই মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা অর্জন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছর মাদ্রাসার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।’
মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন মাসুক জানান, গত বন্যায় পাহাড়ি ঢলে আমাদের মাদ্রাসার বেশ ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’
মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শাহ আলম বলেন, প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে মাদ্রাসাটি ঝুঁকির মুখে পড়ে। তখন বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয় মাদ্রাসার। এবারও অনেক ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রাসার অনেক সমস্যা আছে। মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’