পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের নিকট এ বিষয়ে গত ১৮ জানুয়ারি এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের মোকামের খাল এলাকায় গত বছরের ২৬ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে এবার ৪০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি দেখিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও গত বছরের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় কৃষকদের বাদ দিয়ে বাঁধ এলাকায় তিন কিলোমিটার দূরের কৃষক নন ও বির্তকিত ব্যক্তিদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত বছরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষক জিতু মিয়া জানান, গত বছর আট লাখ টাকা বরাদ্দের ওই প্রকল্পে আমরা শতভাগ কাজ বাস্তবায়ন করে ৯৩ ভাগ বিল পেয়েছি। গণশুনানিকালে আমাদের কাছ থেকে এবার কমিটি নিয়েও অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব বাঁধ এলাকায় কৃষি জমি নেই এমন একজনকে সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য কে সাধারণ সম্পাদক করে আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছেন। এবার ওই প্রকল্পে ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ কমিটি বাতিল করে নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধের পাশে জমি আছে এমন কৃষকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে বাঁধ এলাকার কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ৫ থেকে ৭ সদস্য কমিটি গঠন করার কথা। এবার লোক দেখানো গণশুনানি হওয়ায় পিআইসি গঠনে কিছু কিছু এলাকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ বাস্তবায়ন তদারক কমিটির উপজেলা সদস্য সচিব পাউবোর মাঠ কর্মকর্তা হাসান গাজী বলেন, ৪০ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয়নি।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, পিআইসি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সদস্য সচিব পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী । নিয়ম অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিটি গঠন করার কথা।