পিডিবির সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন

জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার পরও জেলাসদরসহ পিডিবি’র আওতাধীন এলাকাসমূহে ঘন ঘন বিদ্যুৎবিভ্রাট হচ্ছে। রমজানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়া এবং এই প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়ার পর এরকম বিদ্যুৎ বিভ্রাট পিডিবি’র অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও অদক্ষতার পরিচয় বহন করে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে সংকটের কিছু চিত্র উঠে এসেছে। বিদ্যুৎ লাইন সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অনীহা এই সংকটের একটি অন্যতম কারণ। অভিযোগ রয়েছে এইসব কর্মচারীদের অধিকাংশই স্থানীয় বাসিন্দা এবং শ্রমিক রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় তারা লাইনের ত্রুটি সারানোর পরিবর্তে নতুন সংযোগ দেয়াসহ রোজগারের নানা ধান্দায় ব্যস্ত থাকেন। আমাদের জানা মতে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এখন স্থানীয় অধিবাসীদের নিজ এলাকায় পদায়ন করে না। সম্ভবত স্থানীয়দের প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং নানা অছিলায় কাজ না করার মনোবৃত্তির কারণেই পল্লী বিদ্যুৎ এরকম একটি বিধান জারি করেছে। নি¤œবেতনভুক কর্মচারী হিসাবে এইসব কর্মচারীরা নিজ এলাকায় পোস্টিং পাওয়ার জন্য মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। সরকারি বদলী ও পদায়ন সংক্রান্ত বিধি-বিধানগুলোও এর আলোকেই প্রণীত। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সরকারের দেয়া এই বিশেষ অধিকারের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ কিছুটা অনধিকার চর্চা করেন, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের পরিস্থিতি একটু বেশিই লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে ট্রেড ইউনিয়নের মতো একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠানকে আজ অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে।
দেখা যায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ ছিল না। জেলা সদর তিন দিনের মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই ছিল বিদ্যুৎহীন। আগে জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়া এবং ছাতক গ্রিড লাইনে বিপর্যয়ের কথা বলা হলেও এবার পিডিবি’র পক্ষ থেকে এসব কথা আর বলা হচ্ছে না। এর পরিবর্তে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সঞ্চালন লাইনের জরাজীর্ণ অবস্থাকে সামনে আনা হয়েছে। বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পুরানো ট্রান্সমিটারগুলো একটু বৃষ্টি হলেই অকেজো হয়ে যায়, কিন্তু এগুলো মেরামতের জন্য কাউকে দায়িত্ব দেয়া হলে ওই কর্মচারী ঠিকমত দায়িত্ব পালন করেন না। মোটাদাগে বর্তমান বিদ্যুৎবিভ্রাটের জন্য অভ্যন্তরীণ সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাকনিক্যাল কর্মচারীদের অবহেলার বিষয়টিকেই দায়ী করা যায়। এই সমস্যা পিডিবি স্থানীয় অফিসের নিজস্ব সমাধানযোগ্য বিষয়। আদেশ পালন করেন না যেসব কর্মচারী তারা চাকুরি প্রবিধানমালা অনুসারে দোষী। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। কোন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নষ্ট হলে সেখান থেকে কোন কাজই ভাল ভাবে আশা করা যায় না। তাই পিডিবিকে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
পিডিবি এবং এর কর্মচারীদের একটা কথা বুঝতে হবে যে, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে টিকে থাকার একমাত্র পথ হলো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, দক্ষতা ও সেবার মানোন্নয়ন। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুৎ এক ধরনের সফলতা অর্জন করেছে। দেশে তাদের সঞ্চালন লাইন এখন ক্রমবর্ধনশীল। প্রতিনিয়ত তাদের সঞ্চালন এলাকা বাড়ছে। অন্যদিকে পিডিবি এক জায়গায়ই আটকে আছে। বরং তাদের স্থবিরতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামনে এনে অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিণত করার একটি প্রবণতাও দৃশ্যমান। পিডিবিকে যোগ্যতাবলেই এই জায়গা থেকে নিজেদের উত্তরণ ঘটাতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে সমূহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিদ্যমান। আমরা আশা করি পিডিবির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিরন্তর কাজ করে যাবেন।