পুলিশের রহস্য ভেদ, বোন জামাইয়ের হাতে খুন সম্বন্ধি

স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলায় বোন জামাইয়ের হাতে খুন হয়েছেন সম্বন্ধি। ঘটনাটি ঘটেছে ২১ জুলাই রাতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর বাজারে। পুলিশ হত্যাকা-ের পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা ফখর উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও ভাড়াটে খুনি দিরাই উপজেলার ধলকুতুব গ্রামের ছবর আলীর ছেলে এনাম উদ্দিন (২৭), গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে মহিতুল ইসলাম ওরফে মইতুল কে আটক করেছে। এসময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার সুনামগঞ্জ সদর থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ২১ জুলাই সকাল পৌনে ১০ টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের অচিন্তপুর গ্রামে যাওয়ার সড়কের পাশে পানিতে ভাসমান অবস্থায় অলিউর রহমান (২৬) নামের যুবকের লাশ পাওয়া যায়। সে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের আসামমুড়া গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে। এর পরদিন ২২ জুলাই অলিউর রহমানের পিতা গোলাপ মিয়া তার গোষ্ঠীর চাচাতো ৩ ভাই এবং ছেলের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে সন্দেহ করে ৬ জনকে আসামী করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন।
সদর থানা পুলিশ প্রযুক্তি’র মাধমে তদন্ত করে অলিউর রহমানের বোন জামাই ফখর উদ্দিনকে (৩৬) সন্দেহ করে গ্রেফতার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ফখর উদ্দিন জানায়, সে তার শ্বাশুরী এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রৌশন আলী মিলে ২০-২৫ দিন আগে হত্যাকা-ের পরিকল্পনা করে। হত্যাকা-ের সঙ্গে ফখর উদ্দিনের চাচাতো ভাই এনাম উদ্দিনও ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে অংশ নেয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ১৮ জুলাই অলিউর রহমানকে সিলেট থেকে খবর দিয়ে আনে বোন জামাই ফখর উদ্দিন। বড়পাড়াস্থ চাচাতো ভাই এনামের বাড়িতে রাতে থাকে সে। ২০ জুলাই এনাম সকালের নাস্তা খাওয়ার সময় অলিউর রহমানকে জানায় তার বোন জামাই ফখর উদ্দিন বিশ্বম্ভরপুরের এক পার্টির কাছে ২ লাখ টাকা পায়। এই টাকা পেলে অলিউরকে একটি টমটম কিনে দেবে। এসময় এনামের দূর সম্পর্কের ভাই মহিতুল ইসলামও তাদের সাথে এসে যোগ দেয়। রাতে এনাম, মহিতুল ও অলিউর বিশ্বম্ভরপুর থেকে ২ লক্ষ টাকা আসছে বলে টাকা আনার জন্য বাসা থেকে বের হয়। এসময় হঠাৎ বৃষ্টি আসলে লালপুর বাজারের কাছে গিয়ে বে তারা। এক পর্যায়ে রাত ১২ টায় মহিতুল ইট দিয়ে অলিউরের মাথায় আঘাত করে এবং গরু কাটার ছুড়ি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ মারে। এরপর মৃতদেহ পানিতে ফেলে দেয়। পরদিন সকাল ৬ টায় অলিউরের বোন জামাই ফখর উদ্দিনকে ফোনে হত্যাকা-ের বিষয়টি জানায় এনাম। এসময় ফখর উদ্দিন তাকে দিরাই হাসপাতালে নিয়ে চুক্তির বাকি টাকা দেয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ গত ২৯ জুলাই বিকালে দিরাই বাসস্টেশন থেকে অলিউরের বোন জামাই ফখর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও ভাড়াটে খুনি এনাম উদ্দিনকে পহেলা আগস্ট দিরাই সেন মার্কেট থেকে ও ২ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরের ওয়েজখালী থেকে হত্যাকা-ের অপর আসামী মহিতুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, সদর থানার ওসি শহিদুর রহমান, ওসি তদন্ত আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ওসি অপারেশন মঞ্জুর মুর্শেদ প্রমুখ।