পূজার ঘটের জন্য নদীর জল সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন মহিলারা

স্টাফ রিপোর্টার
নতুন পাড়া এলাকার সবচেয়ে পুরাতন পূজা উত্তর নতুন পাড়ার। উত্তর নতুন পাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটির আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মুক্তিযুদ্ধের পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭২ সালে এখানে মায়ের পূজা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ৫ জন। বাবু
সুখরঞ্জন রায়, রেবতী রঞ্জন চৌধুরী, ঝুনু গোস্বামী, অনঙ্গ মোহন দাশ, সুবোধ চন্দ্র রায় এবং শচীন্দ্র কুমার দেব। তাদের উদ্যোগেই শুরু হয় মায়ের পূজা। পূজার বাজেট ছিল মাত্র ৫-৬ হাজার টাকা। বর্তমান সময়ের হিসেবে খুবই সামান্য মনে হলেও তখনকার সময়ে সেই টাকা মোটেই কম ছিল না। সেই সময় পাড়ায় এখনকার মতো লোক সমাগত হত না। এলাকায় ঘরবাড়িও কম ছিল। সমগ্র পাড়ায় এই একটিই মাত্র পূজা হতো। সেই থেকে যে পূজা শুরু হয়েছিল তা আজও চলছে একই রকম নিষ্ঠা আর ভালবাসায়। বর্তমানে পূজার বাজেট ৬ থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।
উত্তর নতুন পাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটির শারদীয় দুর্গোৎসব এবার ৪৮তম বর্ষে পড়লো। গেলেই চোখে পড়বে দুই তালা স্থায়ী মন্ডপ। সারা বছরের জমে থাকা ধুলো সরিয়ে সেজে উঠেছে পূজায়। নতুন রঙে, নতুন সাজে। পূজায় প্রতিমা, মন্ডপ এবং আলোয় থাকে নানা চমক। প্রতিবছরই প্রতিমার প্যাটার্ন বা আকার পরিবর্তিত হয়। সাজসজ্জায় কোন থিম না থাকলেও পৌর শহরের জাঁকজমকপূর্ণ পূজা মন্ডপগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। বারোয়ারি বা অন্য সার্বজনীয় পূজা মন্ডপগুলোর মতো আচারে এখানে মায়ের পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়ে থাকে।
পূজায় বাড়তি আকর্ষণ মহিলাদের অংশগ্রহণে মহাষষ্ঠীতে জলভরা অনুষ্ঠান। সপ্তমীর পূজার মূল ঘটের নদীর জলের প্রয়োজন হয়। ষষ্ঠীর দিন সন্ধের দিকে সুরমা নদী থেকে সেই জল সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। মহা সপ্তমীতে সেই জল দিয়ে পূজার মূল ঘট পূর্ণ করা হয়। এলাকার মহিলারা একই রকমের শাড়ী পড়ে সেই জল সংগ্রহ পূজায় অন্যমাত্রা যোগ করে।
উত্তর নতুন পাড়া সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যাজিৎ রায় সন্তু বলেন, ষষ্ঠী থেকেই চারদিকে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে। ষষ্ঠীর দিন বেল তলায় মাকে বরণের মাধ্যমে ঠাকুরকে আবাহন করা হয়। আলোয় আলোকিত হয় মন্ডপ। থেমে থেমে বেজে উঠেছে ঢাক ও কাসার বাদ্য। ষষ্ঠীতে পূজার উদ্বোধন করে মাকে আহবান জানানো হয়। ৭মী, অষ্টমী ও নবমী তে পুষ্পাঞ্জলির পর দুপুরে অন্ন প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রতিদিন রাত ৮টা পর থেকে শুরু হয় মায়ের আরতি।