পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই ২৩ বছর, সুযোগ বঞ্চিত নতুনরা

এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই চলছে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম। ফলে বিকশিত হচ্ছে না নতুন নেতৃত্ব। দল চলছে এলোমেলোভাবে। ব্যাহত হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। নতুন করে কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের প্রথম দিকে আবদুল হক শাহকে সভাপতি ও সুকেশ রঞ্জন তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আবদুল আউয়াল তালুকদারকে আহ্বায়ক করে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত আব্দুজ জহুর ও সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আইয়ুব বখত জগলুল একটি আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। পরবর্তীতে গিয়াস উদ্দিন নূরী মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগে আরেকটি বলয় তৈরি হয়। এ সময় গিয়াস উদ্দিন নূরী নিজেকে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের একাংশের আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করতে থাকেন। কিন্তু আবদুল আওয়াল তালুকদার নেতৃত্বাধীন কমিটির নেতাকর্মীদের দাবি গিয়াস উদ্দিন নূরীর আহ্বায়ক হিসেবে কোনো বৈধতা নেই। গিয়াস উদ্দিন নূরীকে একবার সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছিল মাত্র। কিন্তু যথাসময়ে সম্মেলন না হওয়ায় ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আবারও আবদুল আউয়াল তালুকদারকে আহ্বায়ক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। ২০১৭ সালে ৪ সেপ্টেম্বর আবদুল আউয়াল মৃত্যুবরণ করলে একই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নৃপেন্দ্র চন্দ্র রায় ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন নূরীর দাবি তিনি এখনও এক পক্ষের আহ্বায়ক এবং বর্তমানে দু’পক্ষের নেতাকর্মীরা একই বলয়ে কাজ করছেন।
গিয়াস উদ্দিন নূরীর আহ্বায়ক হিসেবে কোনো বৈধতা নেই জানিয়ে প্রয়াত আবদুল আউয়াল সমর্থিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রবীর বিজয় তালুকদার বলেন, ‘দীর্ঘ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় দলের মধ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দলে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি জানাই।’
মধ্যনগর থানা যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসছে না। আমরা মূল দলে জায়গা পাচ্ছি না। আমরা যেন সবাই একই জায়গায় স্থির হয়ে আছি।’
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমানে দেশের বাহিরে আছেন। তিনি দেশে ফিরলে আগস্ট মাসের পরে যে যে উপজেলা/থানা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ নেই অথবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই সেগুলো গঠন করার ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, ‘দলকে গতিশীল করার লক্ষে দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে মধ্যনগর থানা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা উচিত। সম্মেলনের জন্য মধ্যনগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। জেলা কমিটি চাইলে যে কোনো সময় সম্মেলনে করতে পারে।’