পূর্ব নতুন পাড়া- জাঁকজমকে এগিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
যখন পূজা শুরু হয় তখন বাজেট ছিল প্রায় আড়াই লক্ষের মতো। বর্তমানে যা প্রায় ৯ লক্ষ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও মহাপ্রসাদ বিতরণে সব থেকে বেশী খরচ হয়। পূর্ব নতুন পাড়ার পূজা কমিটির সভাপতি সুশান্ত রায় জানালেন, এবার আলোকসজ্জায় ২ লক্ষ ও প্রতিমা তৈরিতে ২ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। এবার প্রতিমা তৈরি করেছেন রাজধানী ঢাকার সাভারের প্রতিমা শিল্পী গোবিন্দ পাল এবং আলোকসজ্জা করেছে সিলেটের মা লাইটিং।
বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন আঙ্গিকে প্রধান ফটক তৈরি করে আসছেন পূর্ব নতুন পাড়া পূজা কমিটি। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পাড়ার তিন প্রবেশ মুখে তিনটি দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল গেইটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। অন্য দুইটির উচ্চতা ২০-২৫ ফুট। আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে পাড়ার প্রতিটি সড়ক। ভেরাইটিজ লাইট, বল লাইট, ঝাড়বাতি, নানা রঙের টিস্যু কাপড়ে মন্ডপ ও মন্ডপের বাইরে সাজানো হয়েছে। রংবেরংয়ের আলোকের ঝলকানিতে আলোকিত পুরো এলাকা। এখানকার পূজা এবং আলোকসজ্জার মোহনীয় প্রদর্শনী দেখতে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।
আলোকসজ্জাই শুধু নয় রয়েছে শহরের সব থেকে সুন্দর প্রতিমা। জাঁকজমক যতই থাক, এই পুজোতে দেবী মায়ের প্রতি আন্তরিক ভক্তিতে খামতি পড়েনি কোনো দিনও। নিষ্ঠার সাথে সমস্ত আচার অনুষ্ঠান মেনে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পৌর শহরের সার্বজনীন পূজার ঐতিহ্যে ইতিমধ্যেই এটি উল্লেখযোগ স্থান করে নিয়েছে। পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের পর তিন দিনই বিশাল আয়োজনে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
জানা যায়, প্রায় ২৬ বছর ধরে সার্বজনীন যজ্ঞানুষ্ঠান দুর্গোৎসব হয়ে আসছে পৌর শহরের পূর্ব নতুন পাড়ায়। পূর্ব নতুন পাড়ার পূজা শুরু হয় ১৪০১ বাংলায়। তখন পূজা কমিটির সভাপতি ছিলেন মতিলাল ধর এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কালীপদ দত্ত। এরপর পর্যায়ক্রমে অ্যাড নান্টু রায় ও হিরন্ময় রায়, ঝুটন পুরকায়স্থ ও লিটন রায়, সুভাষ রায় ও সুশান্ত রায় পূজা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সুশান্ত রায় ও লিটন রায় পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে প্রয়াত হিমাংশু রায়ের বাসার বিপরীতে পূজা অনুষ্ঠিত হতো। এরপর পাড়ার বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ীভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালে স্থায়ী দুর্গা মন্দিরে পূজা শুরু হয়। বর্তমানে এটি পৌর শহরের অন্যতম প্রধান পূজা মন্ডপে পরিণত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদও এই পূজা ম-পকে পৌর শহরের অন্যতম জাঁকজমকপূর্ণ ও বড় পরিসরের ম-প হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পূর্ব নতুন পাড়ার পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন রায় বলেন, সকল নিয়ম মেনে আমাদের মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পূজায় পৌরহিত্য করেন পৌর শহরের হাছন নগরের নির্মল চক্রবর্তী। সব থেকে সুন্দর প্রতিমা ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা আমাদের মন্ডপেই হয়। শুধু পূজার তিনদিনই নয় ইদানিংকালে বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলাও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দশমীর দিন সকালে পূজার পর থেকে শুরু হয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলে এ সিঁদুর খেলা, যার মূলে থাকেন নারীরাই। অনুষ্ঠিত হয় এসময় ধামাইল গান।