পৃথক স্থানে চার খুন

সু. খবর ডেস্ক
ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার পৃথক ঘটনায় চার জন নিহত হয়েছেন। জেলার তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও বিশ্বম্ভরপুর ও জগন্নাথপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, তাহিরপুর উপজেলার টুকেরগাঁও গ্রামের তাদির মিয়া (২০), জামালগঞ্জ উপজেলার লম্বাবাক গ্রামের সুমন মিয়া (২৫) ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সড়কপাড়া গ্রামের শুকুর আলী (৫৫) এবং জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর ধাওরাই গ্রামের হায়দার আমিন (৪৫) ।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের টুকেরগাঁও গ্রামের তাদির মিয়ার কাছে ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিল একই গ্রামের হাদিছ মিয়ার। তাদির মিয়া এটা সুদে নিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে হাদিস মিয়া পাওনা টাকা দিতে তাদির মিয়াকে চাপ দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাদিস মিয়া ও তার লোকজন তাদির মিয়াকে কাঠের রোল দিয়ে মারপিট করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। রাতেই তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তাদির মিয়া মারা যান। তাদির মিয়া টুকেরগাঁও গ্রামের সাজিদ মিয়ার ছেলে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সড়কপাড়া গ্রামের দুই ভাই আজিজ উদ্দিন ও শুকুর আলীর পরিবারের শিশুদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে শুকুর আলীর একটি ছাগল নিজেদের বাড়িতে আটকে রাখে আজিজের পরিবারের শিশুরা। শুকুর আলী ছাগল আনতে ওই বাড়িতে গেলে আজিজের ছেলেরা তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় বল্লমের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই থানায় থানায় মামলা হয়। পুলিশ আজিজের ছেলে সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া ঈদের নতুন জামা-কাপড় কেনা ও হাত খরচের টাকা চাওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মারা গেছেন। জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার লম্বাবাক গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সুমন মিয়া। তিনি লম্বাবাক গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে ঈদের নতুন কাপড় কেনার টাকা নিয়ে দুই ভাই সুমন মিয়া ও মামুন মিয়ার মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এর এক পর্যায়ে ছোট ভাই মামুন মিয়া সুমন মিয়ার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে সুমন মিয়াকে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, নিহত সুমনের মা বাদী হয়ে বুধবার রাতে তার ছোট ছেলে মামুনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামুন পলাতক আছেন, তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর ধাওরাই গ্রামে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হায়দার আমিন নামে (৪৫) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহতের দুই সহোদর। তারা সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার উত্তর ধাওরাই গ্রামের ওয়ারিছ উল্লা ও প্রতিবেশী হায়দার আমিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাড়ির সীমানা দিয়ে পানি নিষ্কাশন নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। এক পযার্য়ে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের এক ব্যক্তি কাঠের বর্গা দিয়ে হায়দার আলীর মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিন রাতেই তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সংঘর্ষে নিহতের দুই সহোদয় বদরুল আমিন ও ফয়ছল আমিন আহতাবস্থায় সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে ওয়ারিছ মিয়ার স্ত্রী সিতারা বেগমকে গ্রেফতার করে শুক্রবার সুনামগঞ্জ কারাগারে পাঠিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার এসআই রাজিব আহমদ বলেন,‘বাড়ির সীমানা দিয়ে পানি নিষ্কাশন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনায় আহত হায়দার আমিন নিহত হন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় এখনও থানায় এজাহার দায়ের করা হয়নি। তবে সন্ধ্যার দিকে মামলা হবে। হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।