পোকা দমনে আলোর ফাঁদ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার না করে আলোর ফাঁদ পেতে ক্ষতিকর পোকা দমন করা হচ্ছে। রোপা আমনের ক্ষেত সুরক্ষায় আলোর ফাঁদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জামালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় কৃষকরা আলোর ফাঁদ স্থাপন করেছেন। এতে পোকা দমন সহ ধানক্ষেতে ক্ষতিকর কী কী ধরনের পোকা রয়েছে তা শনাক্ত করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ব্লকে এই আলোর ফাঁদ বসানো হবে। ইতোমধ্যে এ পদ্ধতি কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার পর ধান ক্ষেত থেকে ৮০ থেকে ১০০ মিটার দূরে ফাঁকা জায়গায় বাঁশের তিনটি খুঁটি ত্রিকোনাকার করে মাটিতে পুঁতে মাথার অংশ একত্রে বেঁধে দিতে হয়। এরপর মাটি থেকে আড়াই তিন ফুট উপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ¦ালিয়ে খুঁটির মাথায় রশির সাহায্যে ঝুলিয়ে দিতে হয়। নিচে একটি বড় আকারের প্লাস্টিকের গামলা বা পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখতে হবে। মাঠ জুড়ে যখন অন্ধকার নেমে আসতে থাকে তখন ফাঁদের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে পোকা মাকড় পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যায়।
উপজেলা ভীমখালী ইউনিয়নের জাল্লাবাদ গ্রামের কৃষক আতিকুজ্জামান জানান, আলোর ফাঁদ রাতে দৃষ্টিনন্দনও বটে। এতে খরচ কম এবং পরিবেশবান্ধব। তাই ধান ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তকরণ ও দমনে আলোর ফাঁদ প্রযুক্তি আমাদের এলাকায় সাড়া ফেলেছে। এতে সহযোগিতা করছেন উপজেলা কৃষি অফিস ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ।
আলোর ফাঁদে উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই, বোলতা, মাকড়সা, ক্যাবাবিড, লেডি বার্ড বিকল এবং ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোলা, সবুজ পাতা ফরিং, পাতা মোড়ালো পোকা, ও বাদামী গাছ ফরিং এর উপস্থিতি বেশী পাওয়া যায় বলে জানান কৃষকগণ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, ধানক্ষেতে কি ধরনের পোকা মাকড় আছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচি। কৃষকরা সঠিক সময়ে যেন পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে সেই জন্যই প্রতিটি ব্লকে আলোর ফাঁদ স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই আলোর ফাঁদ প্রতিটি কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। এতে খরচ কম তাই কৃষকরা খুশি।