পোশাকের বেচাকেনা আগেই শুরু

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একটু আগে-ভাগেই ঈদের কেনাবেচা শুরু হয়েছে জগন্নাথপুরে। রবিবার জগন্নাথপুর পৌর শহরের পুরাতন বাজার ও শহরের কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ঈদের বেচাকেনার এই চিত্র।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, টানা দুই বছর ফসল ডুবির কারণে ব্যবসায় বিরূপ প্রভাব পড়েছিল গত ঈদবাজারগুলোতে। এবার হাওরে বাস্পার ফলন হওয়াতে প্রচুর পোশাক দোকানে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। এই ঈদে বেচাকেনা বাস্পার হবে বলে আশা করছেন তারা। এরই মধ্যে বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। এদিকে বাজারে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন, গত দুই বছর ফসল হারানোর কারণে পরিবার লোকজনদের ঈদের আনন্দে জামা কাপড় দেওয়া যায়নি। এবছর গোলায় ধান থাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে সাহস যুগিয়েছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের জগন্নাথপুর পুরান বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি কাপড়ের দোকানেই ক্রেতাদের কমবেশি উপস্থিতি রয়েছে। বেচাকেনা চলছে। তবে বড় বড় কাপড়ের দোকান কিংবা আধুনিক বিপণি বিতানগুলোতে প্রচুর পরিমাণে মালামাল মজুদ করা হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি এখনো আশানুরূপ হয়নি।
নিউ ঝলক ফ্যাশনের মালিক কদ্দুছ মিয়া বলেন, গত দুই ফসল ফসলডুবির কারণে ঈদ বাজার খুবই মন্দা ছিল। এবছর হাওরের ফসল ভাল হওয়ায় পাশাপাশি প্রবাসীদের আর্থিক সার্পোটে ঈদবাজার বাম্পার হবে বলে আশা করছি । অন্য বছরের তুলনায় এবার মালামালও অনেক বেশি আনা হয়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী আসল ঝলকের স্বত্তাধিকারী শ্যামল ঘোষ বলেন, এবার মনে হচ্ছে একটু আগে-ভাগেই ঈদ বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে ঈদের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুরোদমে বেচাকেনার ব্যস্ততা বেড়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বড় গার্মেন্টন্স ব্যবসায়ী জানান, এবার হাওরের ধান বাস্পার হওয়াতে জগন্নাথপুর পৌরশহরেরসহ উপজেলার সব’কটি হাটবাজারে প্রায় ৪০ কোটি টাকার মালামাল আমদানি করা হয়েছে।
নলুয়া হাওরপারের কৃষক নেতা সিদ্দেকুর রহমান বলেন, পর পর দুই বছর ফসলহারিয়ে হাওরবাসী নানা কষ্টের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করে। এ বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়ায় অভাবটা মুছে গেছে অনেকটা। গত কয়েকটি ঈদ আনন্দহীন ভাবে কাটলেও এবার হাসিখুশিতে ঈদ উদযাপন করবেন হাওরের লোকজন। এরমধ্যে কেউ কেউ ঈদের কেনাকাটা শুরু করেছেন।
হাওর বাচাঁও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই ঈদ অন্যান্য ঈদের চেয়ে বেশি আনন্দমুখর হয়ে উঠবে। কারণ এবছর প্রতিটি মানুষের ঘরেই ফসল উঠেছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের সহযোগিতা তো রয়েছেই । এ দুইয়ে মিলে খুশির ঈদ খুশিতেই ভরে উঠবে।