পৌরশহরের নৌকা-ফেরি ঘাটগুলোর বেহাল অবস্থা

পুলক রাজ
পৌর শহরের খেয়াঘাটগুলোতে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে প্রতিটি খেয়া ঘাটের আশপাশ। কোনো কোনো ঘাটে ময়লা জমতে জমতে এখন মূল সড়কে এসে পৌঁছেছে। গুরুত্ব¡পূর্ণ সড়কের পাশে আবর্জনার স্তুপ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দুর্ভোগ সঙ্গী করে এসব ঘাট দিয়েই মানুষ খেয়া পারাপার করে থাকে। এভাবে চলছে বছরের পর বছর। দীর্ঘদিন ধরে নৌকাঘাটের উন্নয়নের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কোনো ঘাটে নেই যাত্রী ছাউনি, আলোর ব্যবস্থা। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন ঘাটগুলোতে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। অনেকেই জানান, কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় এবং মানুষের অসচেতনতায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার সব কয়টা খেয়া ঘাটের প্রায় একই অবস্থা। চান্দিঘাটে বৃষ্টি হলে দাঁড়ানোর জায়গা নেই, আলো নেই। ড্রেনের ময়লা সিঁড়ির পাশে জমে থাকে এবং দুর্গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্যবহারকারীরা ঘাটের সিঁড়ি উঁচু এবং প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। ইব্রাহিমপুর ঘাটেও ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। লঞ্চঘাটের সিঁড়িতে ভাঙন ধরেছে, ময়লা আাবর্জনা জমে রয়েছে। নৌকা ভাড়া ২ টাকার জায়গায় নেয়া হয় ৫ টাকা। জল-কাদায় পিচ্ছিল হয়ে আছে যাত্রীদের উঠা নামার স্থান। ওয়েজখালী ঘাটের সিঁড়ি গুলো উঁচু ও অনেকটা খাড়া। উঠতে ও নামতে অসাবধান হলেই ঘটে দুর্ঘটনা। এদিকে কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাটের খেয়াঘাটে সিঁড়ি নেই, নেই মানুষের পারাপারের সুবন্দোবস্ত। এলাকাবাসী, পারাপারকারী মানুষজন শ্মশানঘাটে পাকা সিঁড়ি নির্মাণ ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। জগন্নাথবাড়ী ঘাটেও রয়েছে ময়লার স্তুপ। দুর্গন্ধে নাকাল আশপাশের বসতবাড়ির লোকজন। কাক সহ অনেক প্রাণী মরে আছে।
ব্যবসায়ী রোকেশ সিকদার বলেন, প্রায়ই শহর থেকে জগন্নাথবাড়ী ঘাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে মঙ্গলকাটা যাই। কিন্তু পাকা সিঁড়ি না থাকায় আমাদের প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় তিনি দ্রুত জগন্নাথবাড়ীর ঘাট তৈরী করার দাবি জানান।
নৌ-যাত্রি মাছুম মিয়া বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে নাক টিপে ধরে নৌকায় উঠতে হয়। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ সহ্য করে নদী পারাপার হতে হয়। এতে মারাত্মক পরিবেশ দূষণও হচ্ছে। খেয়া ঘাটটিকে ডাস্টবিন হিসেবে মানুষ ব্যবহার করছে। খুব দুঃখজনক। এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
রোকন রহমান বলেন, ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠ নিতে নদী পার হয়ে আসতে হয়। ঘাটে ওঠার সিঁড়ি নেই। ঝুঁকি নিয়ে পাড়ে উঠছে লোকজন। বৃষ্টির দিনে পাড়ে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে অনেকে। নৌকা থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকবার বই-খাতা, কাপড় চোপড় ভিজে গিয়েছে।
জসিম উদ্দিন বলেন, ইব্রাহীমপুর ঘাটের সিঁড়িতে সবজি বিক্রি করে সবজি ব্যবসায়ীরা। যাত্রীদের ওঠানামায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সব সময়।
হাবিবুর রহমান বলেন, ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে আছে। এসব ময়লার দুর্গন্ধ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘাটে সিমেন্টের খুঁটি না থাকায় যাত্রীরা পড়েছে বিপাকে। ঘাটের ধারে জমে থাকা ময়লার দুর্গন্ধে স্কুলগামী শিশু সহ মানুষকৈ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
মনির বলেন, জগন্নাথবাড়ী ঘাট যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার গন্ধে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি মশা, মাছির উপদ্রব বেড়ে গেছে।
সুলতান আহমদ বলেন, কেন্দ্রীয় শ্মশান সংলগ্ন খেয়াঘাটের কোনো চিহ্ন নেই। নেই সিঁড়ি, নেই যাত্রী ছাউনি। মানুষ নৌকা থেকে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। পাড়ে ওঠার সুব্যবস্থা নেই। সেখানে একটি পাকা সিঁড়ি নির্মাণ করা খুব জরুরী।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হোসেন আহমেদ রাসেল বলেন, স্থানীয় মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে শ্মশানঘাট নির্মাণ করা হবে। এতে মানুষ উপকৃত হবে।
৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, চান্দিঘাটে যাত্রী ছাউনি করা হবে। জায়গায় জটিলতায় দেরি হচ্ছে। আমার ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ যেসব ঘাট রয়েছে সেগুলোর উন্নয়নে চেষ্টা করবো আগামী টেন্ডারে ঢোকানোর।
তিনি বলেন, জনগণের অসেচতনতার কারণে ঘাটগুলো আবর্জনায় ভরে থাকে। ময়লা ঘাটগুলো দেখতে খুবই খারাপ লাগে। আবর্জনায় নদী ভরাট ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পৌরসভার ট্রাক ময়লা আবর্জনা নিয়ে যায় কিন্তু তারপরও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। আমাদের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে জনসাধারণকে।