পৌরসভা উপনির্বাচন- ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচন নিয়ে করা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টা থেকে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা শহরের দুই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষ্য নিয়েছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, শহরের উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুইজন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, ১৮ জন পোলিং অফিসার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে সকাল ১০ টা থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (বিকাল সাড়ে ৫ টা) তদন্ত দলের সদস্য নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব (আইন) মো. সেলিম মিয়া, সিনিয়র সহকারী সচিব মি. শাহ্ আলম ও সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসার আলা উদ্দিন এই স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
পৌরসভা উপ-নির্বাচনে উত্তর আরপিননগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকারী প্রভাষক মো. শফিকুল ইসলাম খন্দকার বলেন,‘আমাকে তদন্তকারী দলের কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দিনে কেন্দ্রের সার্বিক অবস্থা বলতে বলেছেন, আমি বলেছি। আমার কেন্দ্র থেকে কিছু ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়েছিল, সেটি আমি বলেছি, ঐ ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়েছিল কী-না? জানতে চাওয়া হয়েছে, আমি বলেছি আমরা ঐ ব্যালট পেপার আর পাই নি।’
ঐ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রে সংঘর্ষ কেন হয়েছে সে বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়ায় তিনি যা জানেন, বলেছেন।
ভোট গ্রহণের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের কথাও তিনি বলেছেন। কেন্দ্রের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে তখন কী নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন, সেটিও বলেছেন।
কেবি মিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার এইচ এমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইনচান মিঞা বলেন,‘আমার কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ কী কারণে বন্ধ হয়েছিল এবং পরে কীভাবে চালু হলো সেটি জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আমি উত্তর দিয়েছি।’ এর বেশি বলতে চাননি তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রায় এক ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন,‘তদন্ত কর্মকর্তারা আগামীকাল সোমবার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভোট গ্রহণের দিন সুনামগঞ্জে অবস্থান করে ভোটগ্রহণ পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচন কমিশনের ৩ কর্মকর্তার স্বাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল গত পহেলা ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর গত ২৯ মার্চ মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয়। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের ছোট ভাই নাদের বখত, বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী, মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র দেওয়ান গণিউল সালাদীন।
নির্বাচনে জয়ী হন নাদের বখ্ত। তিনি পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৫২ ভোট। তাঁর নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৮৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ৮০৭ ভোট।
ভোটগ্রহণ চলাকালে বিকাল ৩ টায় সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্র দখল, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া, জালভোট প্রদানসহ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখান করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন। তিনি সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পুননির্বাচনের দাবি জানান। একই অভিযোগে বিকাল সাড়ে তিনটায় পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। বিএনপি এই নির্বাচনকে ‘নাটক’ হিসাবে আখ্যায়িত করে। স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভোটের পরপরই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেছিলেন,‘দুয়েকটি কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। নির্বাচনে জিততে না পেরে পরাজিত প্রার্থীরা এখন নানা ভিত্তিহীন কথা বলছেন।’
প্রসঙ্গত. গত ১০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মোতাল্লেবকে সুনামগঞ্জ থেকে ফরিদপুরে তাৎক্ষণিক বদলি (স্ট্যান্ডরিলিজ) করা হয়। ঐ কর্মকর্তা এই আদেশ পেয়ে সাংবাদিকদের জানান, পৌরসভার উপনির্বাচন ছাড়া আর কোন কারণ তাঁর এমন বদলি হবার পেছনে নেই। এই কর্মকর্তা আজ তদন্ত দলের কাছে স্বাক্ষ্য দেবেন।