পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘট- শহরের অলি-গলিতে ময়লার স্তুপ, বের হচ্ছে দুর্গন্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি
ময়লা আবর্জনার স্তুপ পড়ে গেছে শহরের বিভিন্ন বিপণি বিতান ও অলিগলিতে। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। গত তিন দিন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ না করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীরা ধর্মঘটে থাকায় গত ৩ দিন ধরে শহরের সড়ক বাতিও জ্বলছে না।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের সবজী বাজার, মাছ বাজার, জগন্নাথবাড়ী রোড, ফল বাজার, পশ্চিম বাজার, স্টেশন রোড, পৌর বিপণি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে স্থানে স্থানে ময়লার স্তুপ। কোথাও কোথাও দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ফুটপাতের দোকানীরা।
সবজী বাজারের দোকানী শাহীন মিয়া বললেন,‘প্রতিদিন এক ট্রাক ময়লা হয় মাছ বাজার ও সবজী বাজারে। একদিন ময়লা পরিস্কার না হলে বসা দায়। এরমধ্যে ৩ দিন হয় ময়লা পরিস্কার হচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এভাবে দোকান নিয়ে বসা যায় কীভাবে?’
স্টেশন রোডের ওষুধের দোকানের কর্মচারী বিশ্ব চন্দ বলেন,‘এই সড়কে ফলের দোকানীদের লাইন, তারা প্রতিদিন ময়লা ফেলে সড়কে স্তুপ দিয়ে রাখে, আমরা দোকানীরা দোকান পরিস্কার করে রাতে সড়কেই ময়লা রাখি, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এই ময়লা ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। গত তিন দিন হয় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লা নিচ্ছে না। শহরের প্রধান সড়কে ময়লার স্তুপ পড়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মানুষের চলাচলে সমস্যা হবে। ব্যবসায়ীদের দোকান খুলে বসতেও সমস্যা হবে।’
ওদিকে, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘটে থাকায় গত তিন দিন ধরে শহরের সড়ক বাতিও জ্বলছে না। অন্ধকার শহরের সড়ক পথে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারও আশংকা করছেন শহরবাসী।
শহরের হাসননগরের বাসিন্দা রিংকু চৌধুরী বলেন,‘সড়ক বাতি না জ্বলায় পথচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সন্ধ্যার পর অন্ধকার সড়কের যে কোন স্থানেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।’
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কালী কৃষ্ণ পাল বলেন,‘গত ১০ তারিখ থেকে সারা দেশের পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীগণ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন ভাতা এবং পেনশন প্রদানের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৪৮ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সকলেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। পৌরসভার স্থায়ী স্টাফ ৫৭ জন এবং অস্থায়ী ১০১ জন সবাই আন্দোলনে আছেন। গত ৩ দিন ধরে মানবিক কারণে আমরা নাগরিকদের জন্য কেবল পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছি। অন্য সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মানবেন বলেই বিশ্বাস করি আমরা।’
পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল বলেন,‘গত তিন দিন ধরে অনেক অনুনয় বিনয় করে পৌরসভার ১০ জন স্থায়ী স্টাফকে দিয়ে পৌরবাসীকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু ময়লা পরিস্কারের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজে নামছে না। সড়ক বাতিও জ্বালানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ কর্মীরা ধর্মঘটে যুক্ত হয়েছেন। আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দিনমজুর লাগিয়ে পৌরসভার উদ্যোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।’ তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান।