পৌষ সংক্রান্তিতে মাছের দাম না পেয়ে হতাশ ব্যবসায়ীরা

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জের পাগলা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করে আসছেন রায়পুর গ্রামের এনাম মিয়া। প্রতিবছর পৌষসংক্রান্তি এলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি এবং বেশ ভালো মানের মাছ আনেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এই বছরেও পৌষসংক্রান্তিকে উপলক্ষ করে বোয়াল, আইর, দেশি বড় বাইন, গ্রাস কার্প, কাতলা, ব্রিগেড মাছসহ ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এনেছিলেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন বিল, নদী ও জলাশয় থেকে শনিবারে আনা এসব মাছ রবিবার রাত ১০টার পরেও বিক্রি করে শেষ করতে পারেন নি। আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় বেশি দামে ক্রয় করা মাছগুলো আটকে গেছে। কেনা দামের চেয়ে কমমূল্যে বিক্রি করেও শেষ করতে পারছেন না। সব মিলিয়ে ৫/৭ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হবে মাঝারি মানের এ ব্যবসায়ীকে।
একই অবস্থা দেখার হাওরপাড়ের মৎস্য ব্যবসায়ী আবিদুল হক, রুবেল মিয়া ও সেলিম উদ্দিনের। লাভ হবে তো দূরে থাক তাদের প্রত্যেকেরই প্রায় ৩ থেকে ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
তারা জানান, প্রতি বছর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পৌষসংক্রান্তি এলে মাছের চাহিদা দ্বিগুণ বাড়ে। এ অনুপাতে দু’একদিন আগে থেকে বিল, জলাশয়, নদী, একাধিক বাজার ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করেন তারা। এসময় মাছের বিক্রিও ভালো হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এ বছরও মাছের সংগ্রহ করেছিলেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এবছর তেমন মাছ বিক্রি হয়নি। দু’একজন ব্যবসায়ীর কথা বাদ দিলে বাকী সব ব্যবসায়ীরই ক্ষতি হয়েছে। কেবল শান্তিগঞ্জের নয়, জেলাজুড়ের মাছের ব্যবসায়ীরা এ বছর পৌষ সংক্রান্তিতে মাছ কিনে বিপদে পড়েছিলেন।
মাছ বিক্রি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, এবার মানুষের হাতে টাকা নেই। এজন্য বড় মাছও কিনতে পারেন নি। এছাড়া রবিবারে অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নিরামিষভোজী থাকেন। এ বছরের পৌষসংক্রান্তি রবিবারেই পড়েছে। এ কারণে মাছ কম বিক্রি হয়েছে। তাছাড়া আগের বছরগুলোতে সিলেট হয়ে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে শেরপুরের বিখ্যাত মাছের মেলায় যেতে হতো। এজন্য অনেকে মাছের মেলায় যেতেন না। কিন্তু এবছর জগন্নাথপুরের রাণীগঞ্জ সেতু হয়ে কম সময়ে যেতে পারায় অনেক লোক শেরপুর থেকে মাছ কিনে এনেছেন। এজন্য এই এলাকায় মাছের ব্যবসা কম হয়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
শান্তিগঞ্জের ব্রাহ্মণগাঁওয়ের সজল সুত্রধর বললেন, ‘গুড় তেলঔ কিনতাম পারছি না, মাছের টেকা পাইতাম কই, অন্য বছরতো বাইচ্ছাইনতের লাগি জামা-কাপড়ও কিনতাম, ইবার টেকা পয়সা নাই, কাম-কাজও নাই, অভাব ছাড়ের না।’ শত্রমর্দনের পদিন্দ্র বিশ^াসও একই ধরণের মন্তব্য করলেন।
পুরোহিত রাজীব আচার্য বলেন, রবিবার হচ্ছে গুরুবার। দিনটিকে আমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতার মাধ্যমের পালনের চেষ্টা করি। এদিনে অধিকাংশ সনাতনী হিন্দুগণ নিরামিষভোজী হন। তাছাড়া যারা পৌষসংক্রান্তি পালন করেন, তারা আমিষভোজী আর যারা মকরসংক্রান্তি পালন করেন তারা নিরামিষভোজী হন। এ বছরের পৌষসংক্রান্তি গুরুবারে হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষই নিরামিষভোজী ছিলেন। তাই মাছ কম বিক্রি হয়েছে।
আবিদুল হক ও সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা দু’জনে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মাছ এনেছিলাম। কম বিক্রি হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করে দিচ্ছি। দু’জনের প্রায় ১৫ হাজার টাকা ক্ষতি হবে। রুবেল মিয়া বলেন, আমার ৩ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।