প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ- জামালগঞ্জে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বিল আটক

বিশেষ প্রতিনিধি
বিগত মৌসুমের হাওর রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) শেষ কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে জেলার কোন কোন উপজেলায় ঘুষ আদান-প্রদানের অভিযোগ ওঠেছে। জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় পিআইসিদের কাছ থেকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারীর বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ ওঠেছে। এই বিষয়টি রাজনৈতিক কর্মী, জনপ্রতিনিধি, এমনকি গণমাধ্যমকর্মীরাও জেনেছেন। এই অবস্থায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার চেকও পাচ্ছেন না ৮০ টি পিআইসির দায়িত্বশীলরা।
জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের নতুনপাড়ার বাসিন্দা ওমর ফারুক এবার হাওরের কোন কোন বাঁধে সাব ঠিকাদার ছিলেন। শনিবার বিকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবারই পিআইসি’র দায়িত্বশীলরা বাঁধের কাজের শেষ কিস্তির টাকার চেক পাবার কথা ছিল। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান শুনেছেন কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী নেহার রঞ্জন দাস অনেক পিআইসির কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। এ জন্য পিআইসিদের চেক প্রদান না করে তিনি বলেছেন, যারা প্রকৌশলীকে ঘুষ দিয়েছেন, টাকা ফেরৎ নেন, তারপর চেক পাবেন।’
জামালগঞ্জের পাগনার হাওরের ৮১ নম্বর পিআইসির সভাপতি মজবুল হোসেন বলেন,‘আমাদের পিআইসির শেষ কিস্তির বিলও পেয়েছি। ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার কাজ ছিল, ১৮ লাখ টাকা বিল হয়েছে। ১ লাখ টাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী নেহার রঞ্জন দাসকে ঘুষ দিয়েছি।’
একই হাওরের ৯০ নম্বর পিআইসির সভাপতি তায়েফ আহমদ বলেন,‘২৪ লাখ ১৫ হাজার ২১০ টাকার কাজ ছিল। প্রায় ১৩ লাখ টাকা বিল পেয়েছি। জুনের আগে শেষ কিস্তির বিলের আগে নেহার বাবু (প্রকৌশলী নেহার রঞ্জন দাস) বলেছিলেন,‘আপনারা সমঝোতায় আসলে বিল কিছু বেশি পাবেন। আমরা বলেছি টাকা কোথায় পাব।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালগঞ্জের ১০০ টি পিআইসি’র ৮০ টি’র প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা শেষ কিস্তির বিল আটক।
প্রকৌশলী নেহার রঞ্জন তালুকদার এ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি যারা যে পরিমাণ কাজ করেছে, সেই পরিমাণ প্রোগ্রেস রিপোর্ট দিয়েছি। বিলও সেভাবেই করেছি। ৭০ শতাংশ কাজকে ৯০ শতাংশ করিনি, ৯০ শতাংশ কাজকে ৭০ শতাংশ করিনি। এ কারণে ক্ষুব্ধ অনেকে। এখন আবার চেক না পেয়েও অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছে। শুনেছি আমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করানো হবে। আমি কারও কাছ থেকে ঘুষ নেবার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। এসব মিথ্যা অভিযোগ।’
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন,‘৩ মাস আগে বাঁধের কাজের বিল অনেুমোদন হয়ে আছে। আমরা কয়েক দিনের মধ্যেই সকল পিআইসির চেক দিয়ে দেব। প্রকৌশলী নেহার রঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে কেউ আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি।’
পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন,‘শেষ কিস্তির চেক দেওয়া নিয়ে অনেক স্থানেই শুনেছি সমস্যা হচ্ছে। জামালগঞ্জেও ঠিক এভাবেই শুনেছি। জুনের মধ্যেই বিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখন এসব বিষয় নিয়ে কথা ওঠলে বলার কিছুই নেই।