প্রচারণায় আওয়ামী লীগ অপেক্ষায় বিএনপি

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ. সুনামগঞ্জ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের পক্ষে ভোট চেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচারণায় সময় পার করছেন উপজেলার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। অপরিেদকে কেন্দ্র থেকে কোন ধরনের নির্দেশনা আসে কিনা সে অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায় (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ-জগন্নাথপুর) এখন অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। বিভিন্ন সভা সেমিনারে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। সেই সাথে জনগণের সামনে আওয়ামীলীগ
সরকারের উন্নয়নের চিত্র তোলে ধরে দেশকে এগিয়ে নিতে আওয়ামীলীগের নৌকায় ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরছেন তিনি।
অপরদিকে, দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বিএনপিতে। নির্বাচনের চেয়ে তাদের দলের নেত্রীকে মুক্ত করে আনতে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনই তাদের এখন মুখ্য বিষয়। নির্বাচনের কোনো কথাই তারা বলছেন না। নির্বাচনকে ঘিরে তাদের কোনো প্রচারণাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বেশ কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, ফেস্টুন, ব্যানারের মাধ্যমে অর্ধ ডজন নেতা ধানের শীষের প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এই আসন থেকে। দলের চেয়ারপার্সনের জিয়া অরফানেজ ট্র্রাস্ট মামলায় সাজা এবং কারাবাস হলে তাদের প্রচারণায় ভাটা পরে। অপরদিকে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রার্থীতার প্রশ্নে বর্তমান এমপি, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রশ্নে একাট্টা স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনসমূহ।
এম এ মান্নান এলাকায় না থাকলেও তার পক্ষে প্রচারণা ও সভা সেমিনার করে মাঠ গরম করে রাখছেন সংগঠনের স্থানীয় নেতারা। নির্বাচনের যে খুব বেশি দিন বাকী নেই, তা তাঁদের কর্মসূচিতেই বুঝা যাচ্ছে। তারা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়েও গণসংযোগ করছেন। এতে দলের পক্ষে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. হাসনাত হোসেন বলেন, ‘দক্ষিণ সুনামগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা কাজ করছি। প্রতিদিনই কর্মসূচি থাকছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের ভোটারদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ বাড়িয়েছি।’
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা মাঠে আছি এবং থাকবো। ইতোমধ্যে উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে আমরা গিয়েছি। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ও সরকারের উপর ভীষণ খুশি মানুষ। হাওরে বেড়িবাঁধের কাজ ভাল হওয়ায় সরকার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে কৃষকদের কাছে।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের মাথায় এখন নির্বাচন নেই। আমরা আমাদের নেত্রীর মুক্তি চাই। সরকার ষড়যন্ত্র করে আমাদের নেত্রীকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছেন। আমরা আমাদের নেত্রীর মুক্তি ছাড়া এখন অন্য কোনো কথা বলছি না।’



আরো খবর