প্রতারক চক্রের মূলোৎপাটন করতেই হবে

প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশলে ধরাশায়ী হচ্ছেন অনেকেই। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পর্যন্ত গড়ে তুলেছে তাদের নেটওয়ার্ক। সুসংগঠিত এসব সিন্ডিকেটের মূল টার্গেট গ্রামের সহজ-সরল মানুষ। তাদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে এসব চক্রের সদস্যরা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। দারিদ্র্য, অসচেতনতা ও অন্যান্য কারণে এক শ্রেণির মানুষ এর ভয়ঙ্কর শিকার। এক বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে প্রতারণা। গ্রামের মহিলারা সুবিধা নিতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। অনেকেই ধার করে টাকা দিয়ে কম দামের পণ্য নিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। গত শনিবারের পত্রিকায় উঠে এসেছে এমনসব চিত্র।
‘অভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকরা’ শিরোনামে দৈনিক সুনামগঞ্জের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এরই উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। তিয়ানশি (বাংলাদেশ) কোম্পানী লি. এর ১৫ জন স্টাফ গ্রামে গ্রামে ঘুরে স্ক্যাচ কার্ড বিক্রি করে। ভিন্ন কৌশলের এই প্রতারকরা ১০০ টাকা করে স্ক্যাচকার্ড বিক্রি করছে শুধুমাত্র গ্রামের মহিলাদের কাছে। এদের লোভনীয় অফারে আকৃষ্ট হয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষরা প্রথমে ১০০ টাকা দিচ্ছেন ওই চক্রের সদস্যদের। আবারও স্ক্যাচকার্ডের উল্লিখিত পণ্য নিতে দিতে হয় এক হাজার পাঁচশত টাকা। গ্রামের মানুষকে নিম্নমানের পণ্য দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। গত কিছুদিন ধরে অনুমোদনহীন এই কোম্পানী শহরের ওয়েজখালী থেকে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। কতজন প্রতারণা শিকার হয়েছে এর হিসাব মেলানো ভার। এসব প্রতারণার কৌশলগুলো বিচিত্র ও অভিনব। প্রথমে পরিচয়, তারপর নানা কায়দায় বিশ্বাস জমানো, সুযোগ বুঝে অর্থ হাতিয়ে নেয়া ইত্যাদি নানা পর্যায়ে চলে প্রতারণায় কার্যসিদ্ধি।
নিজেদের পকেট স্ফীত করার মতো হীন কর্মকাণ্ডে লিপ্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরী। প্রতারকদের কর্মকা- শুধু দরিদ্র মানুষদের জীবন বিপন্ন করছে। এদের কারণে নানামুখী সর্বনাশের ছায়া ক্রমে বিস্তৃত হবে আর এর বিপরীতে দায়িত্বশীলদের কিছুই করার থাকবে না, তা হতে পারে না। এর মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রতারক চক্রের মূলোৎপাটন করতেই হবে।