প্রতারণা করে চাকরি লাভ/ সেই প্রার্থীদের যোগদান স্থগিত

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় প্রতারণা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত মাহাবুবুল ইসলাম ও মাহমুদুল ইসলাম নামে সেই দুই ভাই চাকরিতে যোগদান করতে পারেনি। গত রোববার ওই দুজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান করতে গেলে তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তারা (মাহাবুবুল ও মাহমুদুল) অন্য জেলার বাসিন্দা। তাই যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। পুলিশ ভ্যারিফিশনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এদিকে মাহাবুবুল ও মাহমুদুলকে চাকরিচ্যুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মাহাবুবুল ও মাহমুদুল নেত্রকোনা জেলা সদরের ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের পাঁচপাইয়ের পাহাড়পুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সাইফুল ইসলাম এবং ওই ইউনিয়নের বেতাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে স্থায়ীভাবে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকায় বসবাস করছেন। কিন্তু মাহাবুবুল ও মাহমুদুল বেখইজোড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পোষ্য কোটায় সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন। বেখইজোড়া গ্রামে মাহাবুবুল ও মাহমুদুলের খালা মাজেদা খানম হ্যাপীর বাড়ি। সেই সুবাদে তারা নিজেদের বেখইজোড়ার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কৌশলে বেখইজোড়ায় জায়গাও কিনেছেন। কিন্তু সোমবার দুপুরে বেখইজোড়া গ্রামে সরেজমিন মাজেদা খানমের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, মাজেদা খানমও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বসবাস করেন। গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে যেতেই দেখা হয় আলমগীর খান নামের একজন যুবকের সাথে। কথার প্রসঙ্গে তিনি জানালেন, তিনিও এবারের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর চাকরি হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমার গ্রামের পরিচয় দিয়ে বহিরাগত যে দুইজন চাকরি নিয়েছে তাদের কারণে আমার মতো স্থানীয়রা বঞ্চিত হয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
বেখইজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুবেল আলম শাহ বলেন, ‘আমি ১২ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। কিন্তু মাহাবুবুল ও মাহমুদুল নামে কেউ এখানে আছে বলে জানিনা। স্কুলের বিভিন্ন জরিপের সময়েও এমন নাম পাওয়া যায়নি।’
একই গ্রামের সত্তোরোর্ধ মুরুব্বী শামসু তালুকদার বলেন, ‘এলাকায় কারও চাকরি হলে তা জানাজানি হয়। কিন্তু আমাদের গ্রামের সাইফুল নামের কারোর দুই ছেলের চাকরি হয়েছে বলে কখনও শুনিনি।’
পাইকুরাটি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাহাবুবুল ও মাহমুদুলের পরিবারের লোকজন আমার কাছে এসেছিলেন। এ ব্যাপারে সহযোগীতা করার জন্য আমাকে অনুরোধও করেছেন। কিন্তু আমি তাদেরকে প্রশ্রয় দেইনি। তাদেরকে প্রশ্রয় দিলে আমার হাওর এলাকার দরিদ্র মেধারীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবে। মাহাবুবুল ও মাহমুদুলকে চাকরিচ্যুত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া উচিত। যাতে পরবর্তীতে কেউ এমনটি করার সাহস না পায়।’