প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই গলা কেটে হত্যা করা হয় শ্যামাচরণকে

এনামুল হক, ধর্মপাশা
ধর্মপাশা উপজেলার সুনই নদী জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে জেলে শ্যামাচরণ বর্মণ হত্যাকা-ের রহস্য উদঘাটন করেছে সিলেট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্যামাচরণ বর্মণের লোকেরাই গলা কেটে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছিল বলে শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট পিবিআইয়ের এসআই তারিকুল ইসলাম। গেল বছরের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে।
সুনই নদী জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ইজারাদার সুনই মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি সুবল বর্মণ ও একই সমিতির কো-অফট (বিশেষ বিবেচনায়) সভাপতি চন্দন বর্মণের (শ্যামাচরণের বাবা) মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্যেও চন্দন বর্মণ জলমহালে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তখন তৎকালীন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা চন্দন বর্মণের বিরুদ্ধে সমবায় বিধি লংঘনের অভিযোগ এনে তাকে (চন্দন) সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে সমিতি থেকে বহিস্কার করার জন্য জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সুপারিশ করেন। অন্যদিকে চন্দনের সাথে হওয়া লিজ চুক্তিপত্র বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) এর আদালতে আপিল করেন সুবল বর্মণ। শুনানি শেষে কোর্ট চন্দনের সাথে হওয়া চুিক্তপত্রটি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের পরিপন্থি কি না তার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাই সুনই নদী জলমহালে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর জন্য আইনগত ব্যবস্থা নিতে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সুবল বর্মন আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএনও জলমহাল সরেজিমনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং উভয় পক্ষই মারমুখী অবস্থান নেয়। এতে প্রায়ই ঘটতে থাকে অপ্রীতিকর ঘটনা। কিন্তু ২ ডিসেম্বর চন্দন বর্মণ ও তার লোকজন সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর নাম ব্যবহার করে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তাঁর ছোট ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকনের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলেন। ফলে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়। পরে গেল বছরের গেল বছরের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘষ হয়। এ সময় জলমহালের খলাঘরে অগ্নি সংযোগ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সমিতির সদস্য শ্যামাচরণ বর্মণকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। আর ওই রাতেই ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আর ঘটনার একদিন পর চন্দন বর্মণ এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ছোট ভাই মোজাম্মেল হোসেন রোকনসহ ৬৩ জনকে অভিযুক্ত করে থানা লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২১ মার্চ মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই। পিবিআই শ্যামাচরণ বর্মণ পক্ষের খলিল খান, ফেরদৌস, হাবলু, জহরলাল ও মোশারফকে আটক করে। আর আটককৃতরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে শ্যামাচরণের লোকজনই হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। গত বুধবার এ ঘটনায় চন্দন পক্ষের সাধন ভৌমিক ও তুহিন নামের আরও দুইজনকে আটক করেছে পিবিআই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট পিবিআইয়ের এসআই তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৫ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে শ্যামাচরণের লোকজনই হত্যাকা- ঘটিয়ে বলে স্বীকার করেছে। কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে। তদন্তের স্বার্থে তা বলা যাচ্ছে না। তবে কার নির্দেশে হত্যাকা- ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’