প্রতিপক্ষের হামলায় মৃত্যুর অভিযোগ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ অফিস
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের ৩ সন্তানের জনক তাজ মিয়া। পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তিনি। গত বুধবার মাছ ধরার ছাই দিয়ে মাছ ধরা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি।
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান তিনি। এমন অভিযোগ পরিবার ও প্রতিবেশিদের। ছেলে হারা মা এবং স্বামী হারা স্ত্রী এখন পাগলপ্রায়। ছোট শিশুসহ পরিবারের সবাই এই হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার চান।
জানা যায়, কয়েকদিন যাবৎ ধরে বারবার নিষেধ দেয়ার পরেও তাজ মিয়ার মালিকানাধীন জায়গায় গ্রামীণ মাছ ধরার যন্ত্র ছাই দিয়ে মাছ ধরছেন প্রতিপক্ষ কামরুজ্জাম, রুহুল আমি, নুরুজ্জামান ও আনসার মিয়া। নিষেধ অমান্য করে আবারও মাছ ধরতে এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় তাজ মিয়া নিহত হয়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। হামলায় তাজ মিয়ার চাচীসহ গুরুতর আহত হন আরও ৩ জন।
এদিকে ঘটনার দিন থেকেই প্রতিপক্ষরা এলাকা ছেড়েছেন। তাদের সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবারের লোকেরা জানান, সংঘর্ষের দিন থেকেই বাড়িতে নেই। কোথায় আছেন তাও জানেন না পরিবারের লোকজন।
কথা হলে হলে সংঘর্ষে নিহত তাজ মিয়ার চাচী আছমা বেগম বলেন, প্রথমে মারামারি শুরু হলে আমি এগিয়ে যেতেই প্রতিপক্ষের লোক আমার উপর হামলা করে। তারা আমার ঘরের দরজা ভেঙ্গে আমার আত্মীয়ের উপর হামলা চালায়।
নিহতের পরিবার জানান, তাজ মিয়াকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এখন এই হত্যাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ। যারা ছোট ৩ টা বাচ্চাকে এতিম করেছে আমরা সেই হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
কাবিলাখাই গ্রামের বশর মিয়া বলেন, মারামারি শুনে সবার মত আমিও দৌঁড়ে আসি। এসে দেখি মুমূর্ষু অবস্থায় তাজ মিয়াকে এম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর শুনি তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী তাজ মিয়া হত্যার বিচার চাই।
মনু মিয়া নামের আরেকজন বলেন, বারবার নিষেধ দেয়ার পরেও প্রতিপক্ষের লোক চাই দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করেনি। তারা আবারো মাছ ধরতে আসলে তাজ মিয়া নিষেধ দেয়ায় তারা তার উপর হামলা চালায়। তাদের অতর্কিত হামলায় মানুষটা মারা যায়। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন বলেন, দরগাপাশার ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের কোন মারামারি বা কেউ মারা গেছে এমন কোন অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।