চোরদের কাছে জিম্মি কয়লা ব্যবসায়ীরা/প্রতিবাদ করলেই শারীরিক নির্যাতন

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরের চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে আসা কয়লা চুরির অভিযোগ উঠেছে। খলা (কয়লা স্টক করার জায়গা) থেকে কয়লা পরিবহনের সময় এই চুরির ঘটনা ঘটছে। প্রতিবাদ করলেই সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারাদিন চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের বৈঠাখালী নৌ বন্দরের পণ্য উঠানামা বন্ধ ছিলো।
এদিকে বেলা ১১টায় গ্রুপের সভাপতি হাজী আলকাছ উদ্দিন খন্দকার উপজেলার চারাগাও শুল্ক ষ্টেশনের বৈঠাখালী নদীর তীরে আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, লোড, আনলোড শ্রমিক ও শ্রমিক সরর্দারদের নিয়ে কয়লা চুরি বন্ধে এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বিভিন্ন যায়গায় স্তুপ করে রাখা ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪ মে.টন চোরাই কয়লা জব্দ করা হয়। এ সময় কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের উপদেষ্টা আবুল হোসেন খান, সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার, অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ ইফতেখার হোসেন বলেন, আজকের পর থেকে কোন কয়লা চুরির ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার বহন করবে কয়লা পরিবহনের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সর্দারগণ। যেখানে যার দখলেই চোরাই কয়লা পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে গ্রুপ কর্তৃক মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে কয়লা চুরির প্রতিবাদে বৈঠাখালী নৌবন্দরে কর্মবিরতি পালন করেন কয়লা শ্রমিকরা। শুল্কস্টেশনে কয়লা খালাস হলেও নৌবন্দরের শত শত কয়লা ভর্তি নৌকা ও বাল্কহেড আটকে থাকায় ক্ষতির মুখের পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের কয়লা আমদানি রপ্তানি চালু হলেও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের কারণে কয়লা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিরমুখে পড়েছেন। শুল্ক স্টেশনে কয়লা খালাস হলেও নৌবন্দরের আনার পর পণ্য উঠানামার সময় চুরি হয়ে যায় কয়লার একটি বড় অংশ। কয়লা চুরির সাথে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চক্র জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এর প্রতিবাদ করলেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
নৌ বন্দরে কয়লা চুরির ফলে ব্যবসায়ীরা কয়লা আমাদানিতে নিরুৎসাহিত হয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিচ্ছেন। তারা বলছেন, একশ টন কয়লা বিক্রি করলে পরিবহনের সময় ৪ টন চুরি হয়ে যাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাদের।
শ্রমিক সরদার আজব আলী বলেন, শুল্ক স্টেশন থেকে কয়লা নদীতে নিয়ে আসার সময় সিন্ডিকেটের লোকেরা কয়লা চুরি করে। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে পাহারাদাররা (সেন্টি) জড়িত। তারা কয়লা জমা করে চোরাই পথে বিক্রি করে। এতে শ্রমিকসহ ব্যবসায়িরা লোকসানে পড়েন। কয়লা চুরির প্রতিবাদে আমরা শ্রমিকরা কর্ম বিরতি পালন করছি। এই চুরি বন্ধ না হলে আমরা নৌকায় কয়লা উঠাবো না।
কয়লা ব্যবসায়ী মো. শামছুল হক বলেন, এলাকার কিছু মানুষ জোর করে কয়লা রেখে দেয়। আমার সামনেই এরকম ঘটনা ঘটছে। কিছু বলা যায় না। বললেই মারামারি শুরু করে। ভয়ে কিছু বলতে পারি না। এতে পার্টির কাছে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এক টন কয়লার দাম ২৫ হাজার টাকা। প্রতি নৌকাতে পাঁচ থেকে ছয় টন কয়লা চুরি হয়ে যাচ্ছে। এজন্য দূরের পার্টিরা এদিক থেকে কয়লা কিনতে চায় না এখন। পরশু দিন প্রায় ১০ টি পার্টি চলে গেছে কয়লা না কিনে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ছি।
কয়লা ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন বললেন, ২৫ হাজার টাকা এক টন কয়লার দাম। ১০০ টন কয়লা ভারত থেকে নিয়ে আসলে ৪ টন কয়লা চুরি হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেকই একারণে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি আলখাছ খন্দকার বললেন, কয়লা চুরির বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি দেখছি। কয়লা চুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে পাহাড়াদাররা (সেন্ট্রি) এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মো. ইফতেকার হোসেন বলেন, বিষয়টি জেনে আমরা সরজমিনে দেখতে এসেছি। কিছু সত্যতা পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেন নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।