প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারে প্রার্থীরা!

জগন্নাথপুর অফিস
আগামী ১৮ অক্টোবর জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী বিধি মতে, প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই প্রচার প্রচারণায় শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু জগন্নাথপুরে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে প্রার্থীরা। তফসিল ঘোষণার পরপরই তৎপরতা শুরু হলেও মনোনয়ন দাখিলের পর থেকেই পুরোদমে মাঠে প্রচার কাজ শুরু করেছেন প্রার্থীরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে তাঁর সমর্থকরা নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছে। এরআগে একই অভিযোগ উঠে জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলমের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে। তাঁর পক্ষে খেজুর গাছ প্রতীকে ভোট চালানো হয়।
এবিষয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম জানান, অতি উৎসাহী হয়ে কর্মীরা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। প্রতীক বরাদ্দের আগে নিষেধ করে করে দেওয়ার পর আর কেউ প্রচারণা চালায়নি।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আকমল হোসেন জানান, প্রতীক ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে নিষেধ করেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, সব প্রার্থীই মাঠে প্রচার চালিয়েছেন। আমি যদি না চালাই তবে ভোটের মাঠে পিছিয়ে পড়ব। তাই আমিও প্রচারে নেমেছি।
সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার শুকুর মাহমুদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা করতে হবে প্রার্থীদের। আচরণবিধি মেনে চলার জন্য আমরা এরমধ্যে প্রার্থীদের বলে দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য ৫ জন প্রার্থী রয়েছে। তাঁরা হলেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আকমল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দলীয় প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্বস চৌধুরী লিটন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।
গত ৬ জুন উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে স্থগিত করা হয় নির্বাচন। গত ২০ সেপ্টেম্বর পুনরায় তফসিল ঘোষণা করে ২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের সিদ্বান্ত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তোড়জোড় শুরু হয় সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে। গত ৬ অক্টোবর মনোনয়ন দাখিলের শেষে প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। ১০ অক্টোবর বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ১৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের কথা রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রচার চালানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রার্থীরা তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েছেন। নির্বাচনী নীতিমালাকে কোনো তোয়াক্কা করছেন না তাঁরা। প্রকাশ্যে বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে প্রচার, গণসংযোগ, সভা, সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়নের প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে ভোট ও সমর্থন চেয়ে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারে ব্যস্ত তাঁরা।