প্রত্ন-পর্যটনের সম্ভাবনার লাউড়েরগড়

স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড় রাজ্যের রাজধানীর দুর্গকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রত্ন তত্ত্বস্থলটি হয়েছে সরকারি তালিকাভুক্ত। প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত ঘোষণা করে। দুর্গ খননের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।
ইতিহাস পর্যালোচনায় পাওয়া যায়, প্রাচীনকাল থেকে শ্রীহট্ট (সিলেট) কয়েকটি খ- রাজ্যে বিভক্ত ছিল। ত্রৈপুর রাজবংশের অধ্যুষিত স্থান ত্রিপুরা রাজ্য বলে সাধারণত কথিত হয়। এই রাজবংশের অধিকার একসময় বরবক্রের সমস্ত বাম তীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
শ্রীহট্টের তিন ভাগ তিনজন পৃথক নৃপতি দ্বারা শাসিত হতো। গৌড়, লাউড় ও জয়ন্তিয়া এই তিন খ-ের নৃপতির অধীন ছিলেন আরও অনেক ক্ষুদ্র ভূমি মালিক। লাউড় রাজ্য ছিল সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার কিয়দংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। লাউড় ছিল একটি স্বাধীন রাজ্য। তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকায় লাউড়ের রাজধানী ছিল। এই রাজ্যের ধ্বংসাবশেষ হলহলিয়া গ্রামে এখনও বিদ্যমান।
ঐতিহাসিক ডব্লিউ হান্টারের মতে, ১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে লাউড় রাজ্য স্বাধীনতা হারায় এবং মোগলরা এর নিয়ন্ত্রক হন। লেখক সৈয়দ মূর্তজা আলী তাঁর রচিত ‘হযরত শাহ্জালাল ও সিলেটের ইতিহাস’ গ্রন্থে এসব তথ্য উল্লেখ আছে।
সুপ্রাচীন এই দুর্গের ধ্বংসাবশেষই লাউড়ের হাউলী, হলহলিয়া বা হাবেলী নামে পরিচিত। বর্তমানে দুর্গের ভগ্নাবশেষ দেখা যায়। প্রতিটি প্রকোষ্ঠের কারুকার্য দেখলে যে কেউ মনে করবেন, এখানে সম্ভ্রান্ত কোনো রাজা বা নৃপতি বাস করতেন। প্রাচীন এই স্থাপনা ক্রমেই ধ্বংসের পথে ছিল।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহাসিক স্থাপনার স্বীকৃতি এবং সরকারের প্রতœসম্পদের তালিকাভুক্ত করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রচেষ্টা ছিল সুনামগঞ্জের কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি বলেন, সিলেটের প্রাচীন ইতিহাসের অনেকাংশই এই অঞ্চলে বিদ্যমান রয়েছে, এখানে সঠিকভাবে গবেষণা করতে পারলে এই অঞ্চলের সঠিক ইতিহাস পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে, যা সিলেটের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ হবে। নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার মাধ্যমে এখানকার প্রাচীন পটভূমি জানা যাবে এবং এই অঞ্চলে প্রতœপ্রেমী ও প্রতœ-পর্যটন বিকাশ হবে।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হান্নান মিয়া বলেন, দুর্গটি সরকারের প্রতœসম্পদের তালিকাভুক্ত হওয়ায় সুনামগঞ্জ তথা সিলেট অঞ্চলের প্রতœপর্যটন বিকাশের ধারা উন্মোচিত হলো।