প্রদীপ রায়কে আসামী করার প্রতিবাদে আ.লীগের সংবাদ সম্মেলন

বিশেষ প্রতিনিধি
দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে হত্যা মামলায় ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামী’ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
রোববার দুপুর ১টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাড. সোহেল আহমদ জানান, গত ১৮ অক্টোবর উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনায় একজন লোক মারা যায়। এই হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়কে আসামী করা হয়েছে। ঘটনার দিন প্রদীপ রায় একটি মামলায় সুনামগঞ্জ দায়রা জজ আদালতে হাজির ছিলেন। এর পূর্বে ২০১৭ সালে জারলিয়া নদী জলমহালে ট্রিপল মার্ডার মামলায় প্রদীপ রায়কে আসামী করা হয়। ঐ মামলার ঘটনার দিনও প্রদীপ রায় জাতীয় সংসদ ভবনে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সংসদ ভবনের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এর ভিডিও ফুটেজও আছে। একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র প্রদীপ রায়কে হেনস্থা ও হয়রানি করতে এবং দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগকে বিভক্ত বা নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে এই তৎপরতা চালাচ্ছে। আমরা মনে করি যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শ মানে না তারাই ষড়যন্ত্র করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারীদের বিরুদ্ধে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগ মনে করে এই সব মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মতৎপরতা বন্ধ করতে হবে এবং মামলার সুষ্ঠু ও নিরেপক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া দিরাই বাজার মহাজন সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামী করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিন, সহ সভাপতি সিরাজ উদ দৌলা, উপজেলা পরিষদেও সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উল্লা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. অভিরাম তালুকদার, জগদীশ সামন্ত, পৌর মেয়র বিশ্বজিৎ রায়, রেজুয়ান হোসেন খান, শাহজাহান সরদারসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে একটি জলমহাল নিয়ে দ্বন্দ্বসহ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর রুহেদ মিয়া নামে ১ জন নিহত এবং আহত হন অন্তত ৩০ জন। এ ঘটনার ৫ দিন পর ২২ অক্টোবর প্রদীপ রায়সহ ৭৩ জনকে অভিযুক্ত করে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সিলেটে র‌্যাবের হাতে আটক হন প্রদীপ রায়। ঐদিন রাতেই তাকে দিরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন শনিবার দিরাই থানা পুলিশ প্রদীপ রায়কে সুনাগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করে। পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।