প্রধানমন্ত্রী হাওরের প্রকল্প দেখলেই লুফে নেন

স্টাফ রিপোর্টার
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন,‘আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন অবাধ-নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য কাজ করছেন।’ বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন,‘ খেলতে হলে মাঠে নামতে হবে। মাঠে নামতে গেলে রেফারিকে মানতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে মানতে হবে, তার উপর আস্থা রাখতে হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। ’
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘আমরা একসময় উপনিবেশ আমলে ছিলাম। সুনামগঞ্জকে দেশের মানুষ চিনত না, জানত না। এখন সারাদেশের মানুষ সুনামগঞ্জকে জানেন ও চিনেন। সামরিক শাসনামলে বেশ কিছুদিন দেশ পরিচালনায় যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সুনামগঞ্জ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার চেষ্টাই করেনি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা সুনামগঞ্জের প্রতি খুবই আন্তরিক। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুর উন্নয়নে সংবেদনশীল। তিনি হাওর, চরাঞ্চল ও পাহাড়ের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাওরের উন্নয়নে কোন প্রকল্প দেখলেই লুফে নেন। হাওর ও হাওরের প্রকল্পকে তিনি অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, হাওরের জন্য, হাওরের মানুষের জন্য আরও প্রকল্প নিয়ে আসুন। ’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,‘ হাওরবাসী তথা সুনামগঞ্জবাসীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শুধু দিয়েই যাবেন তা হয় না। আমাদেরকেও প্রতিদান দিতে হবে, তাকে ভালবাসতে হবে, সম্মান দিতে হবে। আমাদেরও নৈতিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ন্যায় ও উন্নয়নের পক্ষে থাকতে হবে। নৌকাকে আবারও বিজয়ী করে তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আমরা নেত্রীর পাশে ছিলাম, আছি ও থাকব। ’
সুনামগঞ্জের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘ব্রডগ্রেজ রেললাইন কুলাউড়া হয়ে ছাতক পর্যন্ত করা হবে। ছাতক থেকে সুনামগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত রেল লাইন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছেন। উন্নয়নের প্রধান শক্তি বিদ্যুৎ আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। সাঁকোবিহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। আগামীতে কেউ সাঁকো খোঁজে পাবে না। সুনামগঞ্জবাসীর জন্য সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে, দ্রুত তা সম্পন্ন হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে রানীগঞ্জ সেতুর উপর দিয়ে যাওয়া যাবে। চলতি মাসের মধ্যেই সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়েছে। আগামী সরকার গঠনের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ শুরু করব। তবে আমাদেরকে মানসিকভাবে কুপমুন্ডকতা ও কুসংস্থার পরিত্যাগ করতে হবে। একুশ শতকের বাঙালি হিসেবে গড়ে তোলতে হবে। ধুয়াশা থেকে বের হয়ে আলোর পথে এগিয়ে যেতে হবে। জাতিকে শিক্ষিত হতে হবে। শিক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে ও সহকারি কমিশনার আল আমিন সরকারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন্নার বেগম শাহানা রব্বানী, পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন,‘১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতি থেমে গিয়েছিল। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বের দরবারে নিজেকে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাস মোকাবেলা করে ঘরে ঘরে উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতীতের চেয়ে গত ৫ বছরে সদর আসনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নানের প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জের উন্নয়ন হচ্ছে। অপ্রতিরোধ্য অদম্য বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।’
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামছুন্নার বেগম শাহানা রব্বানী বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুনামগঞ্জবাসীর পাশে আছেন, পাশে থাকবেন। গত বছর জেলার সকল বোরো ফসল হানির পর তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে এসেছিলেন। পুরো এক বছর সুনামগঞ্জের কৃষকদের চাল ও নগদ টাকা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছুটে চলেছেন। ’
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ সামাজিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত বলেন,‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় পিছিয়ে পড়া সুনামগঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জেলাবাসীর উন্নয়নে কাজ করছেন। সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালে অনুমোদন হয়েছে। আগামী মাসেই কাজ শুরু হবে। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ভিক্ষুকমুক্তকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন হবে। সারাদেশে ৮৫ ভাগ বিদ্যুতায়িত হলেও সুনামগঞ্জের ৮৬ ভাগ এলাকা বিদ্যুতায়িত হয়েছে। আমরা আশা করি আগামীতে প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান আরও বড় দায়িত্ব পাবেন। ’
সভায় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. বকরকতুল্লাহ খান ও পৌর মেয়র নাদের বখ্ত।
আলোচনা সভার পর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নানসহ অতিথিগণ।
আলোচনা সভার আগে উন্নয়ন মেলায় সুনামগঞ্জ জেলার থিম সং পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এর আগে সকাল নয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উন্নয়ন মেলায় মিলিত হয়।
র‌্যালিতে জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।