প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
দিরাই উপজেলার মাটিয়াপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাতা সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুস ও মাহবুব চৌধুরী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে গত ১০ জুলাই এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগে দেন। পরে অধিদপ্তর থেকে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আগামিকাল রোববার তদন্তের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে যাবেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, দিরাই উপজেলার হাওর অধ্যুষিত করিমপুর ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার জন্য কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল না। ২০০৯ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক দিলারা হাফিজের চেষ্টায় মাটিয়াপুর গ্রামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দিলারা হাফিজের পৈত্রিক বাড়ি ওই গ্রামে। তিনি এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনরা বিদ্যালয়ের জন্য দেড় একর জমি দেন। নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়। এরপর ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত হয়। এমপিওভূক্তির আগে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিলারা হাফিজের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়। এই বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদেন বিষ্ণুপদ দাস। প্রধান শিক্ষক শুরু থেকেই বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিধি বহির্ভুত কাজ শুরু করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ দাস যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের আয় থেকে প্রাপ্ত কোনো টাকা বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলে জমা করেননি। তিনি সব টাকা নিজের হাতে রেখে ব্যয় করেন। গত বছর সুনামগঞ্জে অকাল বন্যায় হাওরে ফসলহানির পর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো বেতন নেওয়া হয়নি। কিন্তু এর আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বেতন ব্যাংক হিসাবে জমা না করে পুরোটাই আত্মসাত করেন তিনি।
এ ছাড়া ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ থেকে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে দুই দফায় দুই লাখ ৫৭ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়। এসব টাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করার কথা থাকলেও তিনি যেনতেনভাবে কিছু কাজ করে এই বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকা আত্মসাত করেন। তিনি নিজেই প্রকল্পের সভাপতি হন। পরিচালনা কমিটি তাঁর কাছে বারবার এই টাকার হিসাব চাইলে তিনি সন্তোষজনক হিসাব দিতে পারেননি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি দিলারা হাফিজ জানান, নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতনসহ সব আয় সাধারণ তহবিলে জমা রাখার কথা। কিন্ত প্রধান শিক্ষক এই টাকা জমা করেননি। এ ছাড়া সরকারি অনুদানের টাকা একইভাবে সাধারণ তহিবলে জমা রেখে পরিচালনা কমিটির অনুমোদন নিয়ে ব্যয় করার কথা। তিনি সেটাও করেনি। তিনি বলেন,‘প্রধান শিক্ষক কমিটির দুয়েকজন সদস্যকে নিয়ে মনগড়া প্রকল্প কমিটি করে যেনতেনভাবে কিছু কাজ করে অনুদানের টাকা আত্মসাত করেছেন। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি।’
প্রধান শিক্ষক বিষ্ণুপদ দাস জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ঢাকায় থাকেন। তাই ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে সমস্যা হয়, এ জন্য ব্যাংকে টাকা না রেখে তিনি প্রতিটি ব্যয়ের ভাউচার রেখে ব্যয় করেন। তবে এখন থেকে ব্যাংকেই রাখবেন বলে জানান তিনি। সরকারি অনুদানের টাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই টাকা ব্যয় করতে সভাপতির অনুমোদন লাগে না। আমিই কমিটি করতে পারি এবং ইচ্ছে করলে আমি প্রকল্প কমিটির সভাপতিও হতে পারি। কাজে কোনো অনিয়ম বা টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। কমিটি নিয়ে কিছু ঝামেলা থাকায় এখন আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।’ তবে সভাপতির অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ আংশিক সত্য বলে স্বীকার করে তিনি বলেন,‘আমার পরিবার ঢাকায় থাকে। জরুরি প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে সেখানে যেতে হয়।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,‘আমি সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন জমা দিব।’