প্রবাসিদের অর্থায়নে ১৬৪ সড়কবাতি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামটি যেন ভূতুরে জনপদ হয়ে উঠে। ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করতে হতো। চুরি-ছিনতাই ও মাদকাসক্তের উৎপাতের শঙ্কা। একদিন আগেও এমন অবস্থায় ছিল। এখন সেই ভয় নেই, অন্ধকারও নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রবাসীদের অর্থায়নে দুই গ্রামের সড়কগুলিতে বৈদ্যুতিক বাতি লাগানোর কারণে আলোকিত হয়ে ওঠেছে গ্রামীণ জনপদ।
রোববার বিকেলে এসব কথা বললেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের প্রভাকরপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম।
হামিদ খাঁন নামে আরেকজন জানান, আলোর ঝলমলে বুঝাই যাচ্ছে না এটি গ্রাম না শহর। এলাকার লোকজন খুবই খুশি। আমরা কৃতজ্ঞ চেয়ারম্যান ও প্রবাসীদের নিকট। তাঁদের জন্য আমাদের এলাকা আলোকিত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ যাতায়াতের সকল সড়কে বাতি লাগানোর কারণে রাতের সামাজিক অপরাধ কমে যাবে।
স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, গত রোববার বিকেলে প্রভাকরপুর ও হামিদপুর গ্রামের কয়েকটি সড়কে বিদ্যুতের ১৬৪টি স্ট্রীট লাইট (সড়কবাতি) এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন পাটলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক। এসময় স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ছায়াদুর রহমান, সাবেক মেম্বার আবুল হাসনাত, হারুন মিয়া, এলাকার যুব নেতা ফজরুল
ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, শিপন মিয়া প্রমুখ। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রভাকরপুর ও হামিদপুর গ্রামের লোকজনের অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব ষ্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ডের মেম্বার ছায়াদুর রহমান জানান, আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক এবং প্রভাকরপুর হামিদপুর এই দুই গ্রামের প্রবাসীদের অর্থায়নে আমাদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি গ্রামীণ যাতায়াত রাস্তা-ঘাটে স্ট্রীট লাইট লাগানো হয়েছে। ফলে পুরো ওয়ার্ডটি আলোকিত হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, এই ওয়ার্ডে ৬ থেকে ৭টি গ্রামীণ সড়ক রয়েছে।
পাটলী ইউনিয়নে পরিষদের চেয়ারাম্যান সিরাজুল হক বলেন, আলোকিত ইউনিয়ন গঠনের লক্ষে আমরা কাজ করছি। যার ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রভাকরপুর ও হামিদপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাইদের গ্রাম উন্নয়ন আহবান জানাই। তাঁরা এ আহবানে সারা দিয়ে তাঁেদর অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৪টি স্ট্রীট লাইট গ্রামীণ সড়কগুলিতে স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই ওয়ার্ডের মতো অপর ওয়ার্ডগুলোও অনুরূপভাবে আলোকিত করার প্রচেষ্টায় কাজ করবো আমরা।