প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় উন্নয়নের রোলমডেল তৈরি করুন

জগন্নাথপুরের এক প্রবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকা-ে সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার এই চিত্র উৎসাহব্যঞ্জক এবং এ ধরনের কর্মকা- আমাদের সর্বদাই আনন্দিত করে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী উপজেলার কেশবপুরের পিংলার হাওরে ৫ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সাড়ে চার হাজার ফুট দীর্ঘ এই গ্রামীণ রাস্তাটি প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে দিচ্ছেন ওই গ্রামেরই যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনৈক ফারুক হোসেন। ওই রাস্তা নির্মিত হলে হাওর থেকে ধান পরিবহনসহ চাষাবাদের জন্য উপকরণাদি হাওরে আনা-নেওয়ার কাজ করতে কৃষকদের সুবিধা হবে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই রাস্তায় মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে, এসময় এলাকার লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আমরা সবসময় মনে করি প্রবাসী ব্যক্তিরা স্থানীয় উন্নয়নে প্রভূত পরিমাণে ভূমিকা রাখতে পারেন। এজন্য শুধু দরকার উপযুক্ত পরিবেশ যেখানে প্রবাসীরা নিজেদের সম্মানীত ও নিরাপদ ভাবতে পারেন। উন্নয়নের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দুষ্টচক্র থেকেও তাঁদের মুক্ত রাখতে হবে একইসাথে। দেশ ও এলাকার প্রতি এই সব প্রবাসীর অন্তরে গভীর মমত্ববোধ কাজ করে। তাঁরা সবসময়ই এলাকার জন্য কিছু করতে চান। বিচ্ছিন্নভাবে অনেক প্রবাসী বহু উন্নয়ন কর্মকা- করছেনও। প্রবাসীদের এইসব উন্নয়ন কাজের জন্য যদি কোন ধরনের স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা থাকত তাহলে যেমন উন্নয়ন কর্মকা-ের বিষয়ে তাঁরা আরও আগ্রহী হতে পারতেন তেমনি সমাজ-উন্নয়নে নিবেদিত প্রবাসীদের অবদানকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে আমরা কিছুটা হলেও দায়মুক্ত হতে পারতাম। প্রবাসী অধ্যূষিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য আমরা অনুরোধ করছি। এখন উপজেলায় নির্বাচিত উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এই পরিষদ নিজেদের সাধারণ সভায় এসব সমাজ হিতকর কর্মকা-ে নিয়োজিত প্রবাসীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কোন উপযুক্ত পদ্ধতিতে আনুষ্ঠানিকতার কাজটি সারতে পারেন।
কেউ যখন নিজের কাজের জন্য স্বীকৃতি পান তখন তাঁর ভিতর বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়। অন্যদের মধ্যেও এই উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আমাদের বিভিন্ন এলাকার ছোটখাট উন্নয়ন কাজের একটি অংশ এভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে। উপজেলা পরিষদগুলো এমন ধরনের উন্নয়ন স্কিম গ্রহণ করে এতে অর্থায়নের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বানও জানাতে পারে। আমরা মনে করি এরূপ আহ্বান জানানো হলে প্রবাসীদের অনেকেই সাড়া দিবেন। এটি স্থানীয় উন্নয়নের একটি ভিন্ন ধরনের রোলমডেলও হয়ে যেতে পারে। সবকিছুতে সরকারের উপর নির্ভরশীলতা এর মধ্য দিয়ে হ্রাস পাবে। উন্নয়নে জনঅংশগ্রহণের এই অপূর্ব সুযোগটি আমাদের গ্রহণ করা উচিৎ।
জগন্নাথপুরের কেশবপুর গ্রামের প্রবাসী ফারুক হোসেনকে আমরা অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা অভিনন্দন জানাই সেইসব প্রবাসীদেরও, যারা ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের এলাকায় অনুরূপ কর্মকা- বাস্তবায়িত করেছেন, কিন্তু সেইসব খবর আমাদের অজানা, তাঁদেরও। আমরা প্রবাসীদের অনুরোধ জানাই এলাকার উন্নয়নে এইভাবে এগিয়ে আসার। এলাকার অধিকসংখ্যক লোকের উপকারে লাগে এমন কাজে প্রবাসীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান আমাদের। যেমন ফারুক হোসেন একটি গ্রামীল রাস্তা নির্মাণ করে কয়েক গ্রামের কৃষকদের সুবিধা করে দিয়েছেন।