প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছে দিরাইয়ের নিরীহ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবু্যুনালের প্রসিকিউটরদের কাছে স্বাক্ষ্য দেওয়ায় এবং নিজের শিশু কন্যার শ্লীলতাহানির ঘটনা জানানোয় প্রভাবশালীদের রোষানলে পড়েছে দিরাই উপজেলার দৌলতপুরের এক নিরীহ পরিবার। ভয়ে নির্যাতিত শিশু কন্যাকে দুই বছর ধরে স্কুলে না পাঠিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না ঐ পরিবারটির। শুক্রবার বিকালে সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ দৌলতপুরে গিয়ে নির্যাতিতা মেয়েটিকে রোকেয়া সদনে নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে আদালতে মামলা চালানোর আশ্বাস দিয়ে এসেছেন তাঁরা।
জানা যায়, দুই বছর আগে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট স্কুলে যাওয়ার পথে দৌলতপুরের নিরীহ পরিবারের ১০ বছরের শিশু কন্যার শ্লীলতাহানি ঘটায় একই গ্রামের হেকিম মোড়লের ছেলে অপু মিয়া (২২)। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই প্রভাবশালী হেকিম মোড়লের পরিবারের লোকজন ঐ নিরীহ পরিবারকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে মামলা তুলে নেবার জন্য।
গত ২২ এপ্রিল আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটির জেয়াদ আল মালুম ও রিজিয়া সুলতানা দৌলতপুরের পাশের শ্যামারচর গণহত্যার তদন্ত কাজে এলে ঐ নির্যাতিতা শিশুর আত্মীয় স্বজনরা গণহত্যার স্বাক্ষ্য দেন। এসময় ঐ শিশু কন্যার উপর নির্যাতনের বিষয়টিও তুলে ধরেন শিশুর স্বজনরা। এরপর থেকে হেকিম মোড়লদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের উপর নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে।
নির্যাতিত ঐ শিশুর বাবা (আক্তার হোসেন) জানায়,‘আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া আসার সময় উত্যক্ত করতো গ্রামের হেকিম মোড়লের ছেলে অপু মিয়া। একদিন নদীর পাড়ে আটকে শীøলতাহানিও ঘটায়। ঘটনাটি তারা আপোসে শেষ করার জন্য চাপ দিয়েছিল। আমরা আপোস না মেনে মামলা করি। এরপর থেকে তারা বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে। ভয়ে মেয়েটির স্কুলে যাওয়া বন্ধ করেছি। এখন বাড়ি থেকে তুলে নেবার হুমকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে শাল্লা থানায় গত ২৩ এপ্রিল জিডি করেছি আমি।’ তিনি জানান, হেকিম মোড়লের ভাই মামুন আল কাওছার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আরেক ভাই মাসুম আল কাওছার বিএনপির স্থানীয় নেতা হওয়ায় এলাকায় তাদের পক্ষে কেউ কথা বলে না।
আটগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন আল কাওছার বলেন,‘নির্যাতিতা ঐ মেয়েটির বাবা (আক্তার হোসেন) বংশগত চোর। তাদের আমরা ভাল করার চেষ্টা করছি। আওয়ামী লীগের ভোটার হওয়ায় তার মেয়ের নির্যাতনের অভিযোগটি সত্য ধরে নিয়ে আমার আত্মীয় হেকিম মোড়লের ছেলের বিচার আমরা গ্রাম্য সালিসে করার চেষ্টা করেছি। আপোসে নিস্পত্তি না হওয়ায় নির্যাতিত শিশুর পরিবার মামলা করেছে। আদালতে মামলা চলছে। আমি এ ঘটনায় কারো পক্ষ নেইনি।’
সুনামগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী গৌরী ভট্টাচার্য বলেন,‘দৌলতপুরে গিয়ে সরেজমিনে আমরা জানতে পেরেছি ঐ শিশু কন্যা নির্যাতনের পর মামলা করে তার পরিবার আরও বেকায়দায় পড়েছেন। আমরা তাদের বলেছি, এই মামলায় আমরা আইনী সহায়তা দেব। ভীত-সন্ত্রস্থ ঐ শিশু কন্যাকে তারা চাইলে রোকেয়া সদনে দিয়ে দিতে পারেন।’