প্রশ্ন ফাঁস ধাঁধাঁর রহস্য উন্মোচিত হোক

প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকার নিজেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় পতিত হয়েছে। নানা ধরনের প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও আটকানো যাচ্ছে না ধারাবাহিক প্রশ্ন ফাঁসের মিছিল। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে শিক্ষার্থীদের কোন লাভ হচ্ছে কিনা এ নিয়ে বিস্তর সন্দেহ থাকলেও এতে যে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেকায়দা অবস্থায় পড়ছেন তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই। প্রশ্ন ফাঁসের ধরন দেখে মনে হয় ফাঁসকারীদের কাছে যেকোন ধরনের আর্থিক লাভালাভের চাইতে মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীকে বিতর্কিত করাই মূল উদ্দেশ্য। এদিকে ইদুর বিড়াল খেলার মতো আজ এদিকে কাল ওদিকে দৌঁড়ে দৌঁড়ে নাকাল অবস্থায় পড়েছে মন্ত্রণালয়। আজ কেন্দ্রে মোবাইল সেট বন্ধ তো কাল কেন্দ্রের ২ শ’ মিটারের মধ্যে মোবাইল পেলে গ্রেফতার। আজ ফেসবুক বন্ধের চিন্তা তো কাল ইন্টারনেটের গতি কমানোর সিদ্ধান্ত আবার রাত পোহাতেই এই সিদ্ধান্ত বদল। এখন চিন্তা করা হচ্ছে পরীক্ষা ব্যবস্থা থেকে এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেওয়া। এমন হাস্যকর কথাবার্তা ও কাজকর্ম দেখে রসিক যে কেউ যদি মন্তব্য করেন, এরচাইতে ঢের ভালো হবে যদি পরীক্ষাই বন্ধ করে দেয়া হয়; তখন তাহলে কিছু বলার আছে কি? পরীক্ষা ব্যবস্থা তুলে দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস আটকানোর চাইতে জুৎসই আর কোন কৌশল তো থাকতে পারে না। আসল কথা হলো যেখানে যেভাবে যারা প্রশ্ন ফাঁস করছেন তাদেরকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে শুরু করে ছাপা ও বিতরণ পর্যায়ে যেকোন ধাপে প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে। প্রত্যেকটি ধাপকে লিকপ্রুফ করাটাই আসল কাজ। নতুবা এলেবেলে ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের হাস্যরসই তৈরি করা যাবে।
বর্তমান সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাক্ষেত্রে ঈষর্ণীয় সফলতা রয়েছে। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি উৎসব করে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত গ্রাম বাংলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে একযুগে পাঠ্যবই তুলে দেয়া সারা বিশ্বে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। কোচিং বাণিজ্য রোধ ও শিক্ষকদের ক্লাশমুখী করতেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তথাকথিত প্রশ্নফাঁস নাটক নিয়মিত মঞ্চায়িত হচ্ছে বলে অনেকের ধারণা। পুলিশ, গোয়েন্দাসংস্থা, মন্ত্রণালয় কেউই ধারনা করতে পারছেন না কোন উপায়ে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, এটি আশ্চর্যজনক বিষয় বটে। সরকারের চাইতে যদি ফাঁসকারীদের হাত লম্বা হয়ে যায় তাহলে বলার কিছু নেই। কিন্তু এভাবে কারও হাত লম্বা করতে দেয়া উচিৎ নয়। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. জাফল ইকবাল বলেছেন, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস আটকানো যায়। এমন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রশ্ন ফাঁস রোধে করণীয় ঠিক করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা দরকার। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। একলা বসে বসে নিজেদের অকর্মন্য বৈশিষ্ট্য সকলের সামনে হাজির করবেন এমন অবস্থা কাম্য নয়।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এ যাবৎ হয়ে যাওয়া সবগুলো পরীক্ষারই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের বৈশিষ্ট্যটি এমন, পরীক্ষা শুরুর এক/আধা ঘণ্টা আগে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে। এই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষার্থীরা আসলেই কি কোন ধরনের সুবিধা নিতে পারছেন? এই প্রশ্নের উত্তরটি যেমন ধাঁধাঁ তেমনি প্রশ্ন ফাঁস রোধ করতে না পারাটাও সমান ধাঁধাঁ বলে আমাদের কাছে বিবেচিত হচ্ছে।