প্রস্তুত পর্যটন স্পট

বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদের ছুটিতে পর্যটকদর হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি লোক সংস্কৃতির ‘রাজধানী খ্যাত সুনামগঞ্জ’। পর্যটন স্পটগুলো যেন অপেক্ষা করছে পর্যটকদের বিনোদন দেবার জন্য। বিশেষ করে মেঘালয়ের পাদদেশে বহমান যাদুকাটার পাড়ের বারেকের টিলা, টেকেরঘাটের ডিসি পার্ক, শহীদ সিরাজ লেক, রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর, সুনামগঞ্জ সীমান্তের ডলুরা, দোয়ারাবাজার সীমান্তের বাঁশতলা, সুনামগঞ্জ শহরের হাসন রাজা মিউজিয়াম, শহরতলির গৌরারং জমিদার বাড়ি, দিরাইয়ের উজান ধলের বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিম’এর বাড়ি, জগন্নাথপুরের কেশবপুরের বৈষ্ণব কবি রাধারমণের বাড়ি পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত।
দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ সবচেয়ে বড় জলাভূমি বিশ্বের অন্যতম রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে সারা বছরই আসেন পর্যটকরা। সুনামগঞ্জ শহরে এসে তাহিরপুর সীমান্তের লাউড়েরগড় হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি বা মোটর সাইকেলে মাথা পিছু দেড়’শ টাকা ভাড়ায় সীমান্তের লাউড়েরগড় পর্যন্ত পৌঁছা যাবে। পাহাড়ী নদী যাদুকাটা এবং মেঘালয়ের গারো পাহাড় ঘেষে থাকা বারেকের টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করবেন ওখানেই। এরপর আবার মোটর সাইকেলে ২ জনে ১০০ টাকা দিয়ে কিংবা অটো রিক্সায় ২০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারবেন টেকেরঘাট ডিসি পার্কে। মেঘালয়ের গারো পাহাড়ের পাদদেশের এই পার্কে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করার সময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সিরাজের নামে হওয়া ‘সিরাজ লেক’এ সময় কাটাতে পারেন পর্যটকেরা। এরপর টেকেরঘাট ডিসি পার্ক থেকে ছোট ছোট ইঞ্জিন নৌকায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় ৪-৫ ঘণ্টার জন্য টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে পারেন পর্যটকেরা। বড় বড় ট্রলার ৪-৫ ঘণ্টার জন্য ভাড়া নিলে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাগবে। বেড়ানো হবে বারেকের টিলা, টেকেরঘাটের ডিসি পার্ক ও টাঙ্গুয়ার হাওর। টাঙ্গুয়ার হাওরে আরও ১০ কিলোমিটার কম দূরত্ব অতিক্রম করে তাহিরপুর উপজেলা সদর হয়েও যেতে পারবেন আপনি। তবে পথের যাদুকাটা, টেকেরঘাট ডিসি পার্ক এই পথ দিয়ে দেখা যাবে না।
তাহিরপুরের গণমাধ্যম কর্মী এমএ রাজ্জাক মনে করেন টেকেরঘাট ডিসি পার্কে পর্যটকদের সুবিধার জন্য হওয়া শৌচাগারগুলো ঈদের ছুটির আগেই খুলে দিলে ভাল হয়।
লোকসংস্কৃতিপ্রিয়রা সুনামগঞ্জে পৌঁছেই হাসন রাজার বাড়ি যেতে পারেন। সুরমা নদীর পাড়ের তেঘরিয়ায় (সাহেব বাড়ি) গড়ে ওঠা হাসন রাজা মিউজিয়ামে আপনি মরমি কবি হাসন রাজা সম্পর্কে জানতে পারবেন, নানা স্মৃতিও ছবিতে দেখতে পারবেন।
আপনি যেতে পারেন বাউল স¤্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের উজানধলের বাড়িতেও। ব্যক্তিগত বা রিজার্ভ গাড়িতে, কিংবা যাত্রীবাহি সিএনজি বা বাসে মাথা পিছু ৬০ টাকা ভাড়ায় ৪১ কিলোমিটার দূরের দিরাই উপজেলা সদরে যাবেন। দিরাই পৌঁছে ১৫ টাকা রিক্সা ভাড়ায় উজানধল ট্রলার ঘাটে যাবেন। সেখান থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় উজানধল বাজারে গিয়ে নামবেন। ওখান থেকে দেড় কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বা ৩০ টাকা মোটর সাইকেল ভাড়া দিয়ে পৌঁছাতে পারেন শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়িতে। দিরাই ট্রলারঘাট থেকে ৫-৬’শ টাকায় (যাওয়া-আসায়) ছোট ট্রলার রিজার্ভ করেও আপনি যেতে পারবেন শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়িতে।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে বৈষ্ণব কবি রাধারমণের জগন্নাথপুরের বাড়িতে যেতে হলে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার সড়ক পথে যাত্রীবাহি গাড়িতে ৬০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছাবেন রাধারমণের কেশবপুরের বাড়িতে। এই পথে ব্যক্তিগত বা রিজার্ভ গাড়িতেও যেতে পারবেন। কেশবপুরে বৈষ্ণব কবি রাধারমণের সমাধি মন্দির দেখে আসবেন। চেষ্টা করলে স্থানীয়দের কণ্ঠে শুনে আসবেন রাধারমণের ধামাইল সঙ্গীতও।
সুনামগঞ্জ শহরতলিতেও পর্যটকদের সময় কাটানোর ক্ষেত্র রয়েছে। যেমন গৌরারং জমিদার বাড়ির রংমহল ঘুরে আসতে পারেন। অটো রিক্সা বা সিএনজিতে যাওয়া-আসায় ৩০০ টাকা দিলেই হবে।
শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে অটোরিক্সায় ১০ টাকা ভাড়ায় ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট খেওয়াঘাটে যাবেন। খেওয়া পাড় হয়ে ওপার থেকে (হালুয়ারঘাট থেকে) ২০০ টাকা ভাড়ায় মোটর সাইকেলে যেতে পারবেন ডলুরায়। ওখানে ৪৯ মুক্তিযোদ্ধার কবর দেখতে পারবেন। সীমান্তঘেষা ওই এলাকাটিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। ডলুরায় যাওয়ার পথে নারায়ণতলার খ্রিস্টান মিশনারীও দেখে যেতে পারেন।
সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক পথে ৬০ টাকা ভাড়ায় দোয়ারাবাজার যাবেন। দোয়ারাবাজার থেকে ১৯ কিলোমিটার সড়ক পথে মোটর সাইকেলে মাথা পিছু ১২৫ টাকা এবং সিএনজিতে মাথাপিছু ৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে আপনি বাঁশতলা মুক্তিযোদ্ধা উপত্যকায় পৌঁছাতে পারবেন। মেঘালয়ের খাসিয়া ও চেরাপুঞ্জি পাহাড়ের পাদদেশের বাঁশতলার পাশেই ঝুঁমগাঁও আদিবাসি পল্লী। পর্যটকরা বাঁশতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মুক্তিযুদ্ধেও স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে মুগ্ধ হবেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিব উল্লাহ্ বললেন,‘টাঙ্গুয়ার হাওর, শহীদ সিরাজ লেক ও বারেকের টিলাসহ যেসব এলাকায় পর্যটকেরা বেশি আসেন, সেগুলোতে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বিশেষ নিরাপত্তা টিম আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত থাকবে।’