- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - http://sunamganjerkhobor.com -

প্রাচীনতম নির্মাণ শৈলীর অন্যতম ছাতকের খরিদিচর ৯ গম্বুজ মসজিদ অনেকাট লোকচক্ষুর আড়ালে

বিজয় রায়, ছাতক
দু’শতাধিক বছরের পুরোনো ছাতকের খরিদিচর ৯ গম্বুজ আদি জামে মসজিদ গৌরবের প্রতীক হিসেবে এখানো সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রাচীনতম এ মসজিদটি এক সময় ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র উপাসনালয় হিসেবে পরিচিত ছিল। দূর দূরান্ত থেকে নামাজ কায়েম করতে এ মসজিদে আসতেন মুসল্লীরা। সবুজ ছায়া ঘেরা পরিবেশে নির্মিত খরিদিচর ৯ গম্বুজ আদি জামে মসজিদটি জেলার প্রাচীনতম নির্মাণ শৈলীর অন্যতম একটি। কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় প্রতিষ্ঠার পর উল্লেখযোগ্য কোন সংস্কার কাজ হয়নি এ মসজিদটিতে। বর্ষা মৌসুমে চুন-সুঁড়কির নির্মিত এ মসজিদটির ছাদ ঘেমে ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। ফলে মুসল্লীরা নামাজ আদায় ও ধর্মীয় উপাসনা করার সময় অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন হয়। দৃষ্টিনন্দন ও পুরাতন এ মসজিদটির নির্মাণ শৈলী এখনো মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়।
ছাতক-জাউয়া-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে খরিদিচর গ্রামে এক নয়নাভিরাম পরিবেশ ৯ গম্বুজ খরিদিচর জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় প্রায় দু’শতাধিক বছর আগে। এ মসজিদটি সুনামগঞ্জ জেলার দ্বিতীয় পুরাতন মসজিদ বলে এখনো এ অঞ্চলে জনশ্রুতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠার তারিখ কেউ বলতে না পারলেও কারুকাজ মন্ডিত এ মসজিদটি যে বহু পুরোনো তা এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা জানিয়েছেন।
উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের খরিদিচর গ্রামের স্বনামধন্য কুলীন মুসলিম পরিবারের সন্তান আলিম উল্লাহর পুত্র মুন্সি আশরাফ আলী মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রামের ইসলাম অনুসারী মানুষের নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার মহৎ উদ্দেশ্যে নিজ অর্থে ও প্রচেষ্টায় নিজের ভূমিতে এ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। কালের পরিবর্তনে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ তথ্য-প্রযুক্তিগত আমুল পরিবর্তন সাধিত হলেও পুরাতন এ মসজিদটিতে এতটুকু উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিষ্ঠাতার পরিবার বংশ পরম্পরায় যুগ-যুগ ধরে প্রাচীনতম এ নিদর্শনটির দেখভাল করে আসছেন। বর্তমানে এ মহান ব্যক্তির ৪র্থ বংশধর বুরহান উদ্দিন, মাওলানা নুরুল হুদা, আজিজুস সামাদ ও এনামুল হক মসজিদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুন-সুড়কীর নির্মিত মসজিদের প্রতিটি দেয়াল ৫০-৬০ ইঞ্চি প্রশস্থ। মসজিদে ডান পাশে রয়েছে ১ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি এবাদত খানা- যেখানে প্রতিষ্ঠাতা মুন্সি আশরাফ আলী সৃষ্টিকর্তার জিগির-আসগর করতেন বলে তার বংশধররা জানিয়েছেন। ভেতরে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৩টি প্রধান ফটক এবং ডান পাশে রয়েছে আযান দেয়ার জন্য উপরে উঠার সিঁড়ি। দুটি সু-উচ্চ মিনার রয়েছে মসজিদের দু’প্রান্তে। মসুল্লীদের ওযু করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল একটি ইন্দিরা। প্রায় ৬ শতক ভূমির উপর নির্মিত খরিদিচর ৯ গম্বুজ মসজিদের ডান পাশে একটি পুকুর, সামনে খরিদিচর মাদ্রাসা ও বামপাশে রয়েছে খরিদিচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রায় দেড় শত বছর পূর্বে ভয়াবহ ভুমিকম্পে সু-উচ্চ মসজিদটির ৫ থেকে ৬ ফুট নিচে দেবে যায় মাটিতে। পরবর্তিতে নামমাত্র সংস্কারের মাধ্যমে মসজিদের মেঝে ভরাট করে নামায পড়ার উপযোগী করে তোলা হয়। মসজিদের কেয়ারটেকার বুরহান উদ্দিন ও মাওলানা নুরুল হুদা জানান, গ্রামের বহু মানুষ এ মসজিদে নামাজ আদায় করে থাকেন। বাইরে থেকে মুসল্লীরা আসেন এখানে উপাসনা করার জন্য। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। অর্থ সংকটের কারণে কোন সংস্কার কাজ করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। বর্ষায় পুরোনো ছাদ ও দেয়াল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে মেঝে শেতশেতে হয়ে যায়। নামায আদায় করার সময় প্রায়ই ছাদ দিয়ে পড়া পানিতে ভিজতে হয় মুসল্লীদের। জেলার প্রাচীনতম ও অপরূপ কারুকাজ বিশিষ্ট খরিদিচর মসজিদটি সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিষ্ঠাতা মুন্সি আশরাফ আলীর বংশধরদের দাবী সরকারী অনুদান, মুসলিম ধনাঢ্য ব্যক্তি বা প্রবাসীরা আর্থিক সহায়তা করলে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় প্রাচীন এ মসজিদটি এক সময় হারিয়ে যেতে পারে।