প্রাচীন খরিদিচর মসজিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে ছাতক উপজেলার খরিদিচর ৯ গম্বুজ মসজিদটি দুই শ’ বছরের পুরনো স্থাপনা। যদিও এই দুই শ’ বছরের তথ্যটি অনুমানসিদ্ধ, স্থানীয়দের পরিবেশিত। দুই শ’ বছর না হোক, অন্তত যদি এই মসজিদটির নির্মাণকাল ১০০ বছর আগেও হয়ে থাকে তবু এটি এখন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এবং এরকম ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বটে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় প্রাচীন এই মসজিদটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। এর ছাদ ও দেয়াল নষ্ট হয়ে গেছে। চুঁয়ে চুঁয়ে পানি পড়ে। স্থানীয়দের অভিমত সরকারি উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কার করা না হলে এটি বিলীন হয়ে পড়বে।
যেকোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে যায়। এইসব ঐতিহাসিক নিদর্শন এলাকাভিত্তিক ইতিহাস চর্চার এক একটি মাইলফলকও। এইসব স্থাপনা স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিহাসবিদরা এমন প্রাচীন নিদর্শন থেকে বহু তথ্য-উপাত্ত বের করে আনতে পারেন আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রন্থা ব্যবহার করে। প্রাচীন এই মসজিদটির যে ছবি গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত হয়েছে, তা থেকে এর দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য যে কারও নজড় কাড়বে। বুঝা যায়, যে বা যিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন (প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে মসজিদটির নির্মাতার নাম মুন্সি আশরাফ আলী) তিনি মনের মাধুরি মিশিয়ে এই মসজিদটিকে নয়নাভিরাম করার চেষ্টায় কোন ত্রুটি রাখেননি। মসজিদের নির্মাণকৌশল ও স্থাপত্যরীতি দেখে তার রুচির প্রশংসা করতে হয়। সম্ভবত তিনি সমকালে যথেষ্ট প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতার ভা-ারও ছিল বেশ সমৃদ্ধ। সমকালে দেশে আর যেসব প্রসিদ্ধ মসজিদ ছিল, যেগুলো তিনি দেখেছেন, সেগুলোর শিল্পবৈশিষ্ট্য অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন তিনি। পাগলা মসজিদের পরই জেলার দ্বিতীয় সুন্দর মসজিদ হিসাবে একে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। পরবর্তিতে তার বংশধররা মসজিদটিকে টিকিয়ে রাখার প্রয়াস পান এবং যতটুকু পেরেছেন ততটুকু করেছেন। এখন এই গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপসনালয় তথা ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ঐতিহ্যিক নিদর্শন হিসাবে ধরে রাখা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর নামের একটি প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাজই হলো এরকম ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহকে সংরক্ষণ করা। খরিদিচর গ্রাম ও ছাতকের সুধীজনদের দায়িত্ব হলো, ঐতিহাসিক এই মসজিদটির কথা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরকে জানিয়ে একে সংরক্ষণের দাবি জানানো। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারবেন। এলাকাবাসীকে অন্তত উপজেলা নির্বাহী অফিসার অব্দি পৌঁছাতে হবে। তিনি পরে যেখানে যেখানে দরকার যোগাযোগ করবেন। এই সম্পাদকীয় মন্তব্যের মাধ্যমে আমরাও ছাতকের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও তাঁর মাধ্যমে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম।