প্রাচীন লাউড়ের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় এলাকায়। মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবি সঞ্জয়ের জন্মও হয়েছে এই এলাকায়। তাহিরপুরের বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে এখনো সেই প্রাচীন রাজ্যের বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এসব স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম ওই এলাকা পরিদর্শন করেন এবং হলহলিয়া গ্রামে প্রাচীন রাজ পরিবারের বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ও জমি চিহ্নিত করে সেখানে লাল পতাকা পুঁতে দেন।
শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সেখানে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও তার সঙ্গে ছিলেন। জেলা প্রশাসক হলহলিয়া গ্রামে লাউড়রাজ্যের নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় লোকদের সঙ্গে কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক এ সময় জানান, লাউড়েরগড় এলাকাটি একটি ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাচীন জনপদ। এখানে প্রাচীন লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। তখনকার সময়ের বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ এখনো আছে। হলহলিয়া গ্রামে এখনো প্রাচীন আমলে নির্মিত রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দুটি পাকা ফটক, বিভিন্নস্থানে কিছু সীমানা প্রাচীরের অংশ রয়েছে। পাশাপাশি অদ্বৈত মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজড়িত কিছু স্থাপনাও রয়েছে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে। ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবেই এগুলো রক্ষা করতে হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হলহলিয়া গ্রামে রাজবাড়ি এলাকায় ৫ একর ৬৫ শতক জমি আছে। এসব সরকারের সম্পত্তি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ৩ একর ৭২শতক জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এখন আছে এক একর ৯৩ শতক। প্রায় ৬০টি পরিবার রয়েছে এসব জমির ওপর। তারা দীর্ঘদিন থেকেই এখানে বসবাস করে আসছে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম জানান, কোনো বসতি উচ্ছেদ করা হবে না। কাউকেই বসতভিটা ছাড়তে হবে না। যারা ভূমিহীন আছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তবে যেসব জমি খালি আছে সেগুলো চিহ্নিত করে সেখানে যাতে আর কেউ কোনো স্থাপনা করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রাচীন স্থাপনাগুলো রক্ষায় স্থানীয় লোকজনকে সহায়তা করতে হবে।
সুনামগঞ্জের সন্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক তাঁর এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, অনেকেই মহাকাব্য মহাভারতের বাংলা অনুবাদ করছেন। তবে এক কথায় বলা যায় মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক বা রূপান্তর করেন কবি সঞ্জয়। কবি সঞ্জয় লাড়উ নিবাসী ছিলেন এ রকম তথ্য পাওয়া যায়। এই লাউড় হলো বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড়। এই জনপদ বিবিধ কারণে বিখ্যাত হয়ে আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, প্রাচীন বৃহত্তর সিলেটে যে তিনটি রাজ্যের সংবাদ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে জৈন্তিয়া, গৌড় ও লাউড়। আজকের লাউড় দেখে অনুমান করার উপায় নেই যে এটি এককালে একটি বিশাল রাজ্যের রাজধানী ও অনেক ইতিহাস সৃষ্টিকারী নগরী ছিল।
লাউড় রাজ্যের এসব প্রাচীন স্থাপনা পরির্দশনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্ণেন্দু দেব, লেখক সুখেন্দু সেন, সাংবাদিক ও আইনজীবী খলিল রহমান, স্থানীয় বড়দল উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম বিকেলে যাদুকাটা নদীতে নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন (র.)-অদ্বৈত সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।