প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ শূন্য পদে পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারী নীতিমালা লংঘন করেই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের পদায়ন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই ফলাফলে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৬৩ জন উত্তীর্ণ হন। শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাদেরকে পদায়ন করেন।
পদায়নের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষককে তার বাড়ির পাশের বিদ্যালয়ে যদি শূন্য পদ থাকে তাহলে সেখানে অগ্রাধিকার হিসেবে পদায়ন করার কথা অথবা এ ইউনিয়নের মধ্যে যে কোন বিদ্যালয়ে পদায়ন করতে হবে। ইউনিয়ন ও বাড়ির নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে শূন্যপদ না থাকলে পাশের ইউনিয়নের শূন্যপদে পদায়ন করতে হবে।
কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ পদায়নের এ নিয়ম না মেনে বাড়ির পাশে বিদ্যালয়ের শূন্য পদে নিয়োগ না দিয়ে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে। ফলে শিক্ষক ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জগন্নাথপুর পৌরসভার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত প্রতাপ রঞ্জন চৌধুরীর মেয়ে তমা চৌধুরীকে পৌর এলাকার আব্দুল খালিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদ থাকার পরও তাকে আশপাশ ইউনিয়নের শূন্য পদে পদায়ন না করে ১৫ কিলোমিটার দুরবর্তী রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। ওই গ্রামের শিক্ষক ইসলাম উদ্দিন কে গ্রামের বিদ্যালয়ে পদায়ন না করে রমাপতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। একইভাবে পৌর এলাকার ইকড়ছই গ্রামের আব্দুল আহাদের মেয়ে জুলেখা সুলতানা কে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের শাহকামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়। এরকম বেশ কয়েকজন শিক্ষককে নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন না করে দূরবর্তী স্থানে পদায়ন করা হয়েছে।
উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আসামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। গ্রামের একটি মেয়ের চাকুরি হলেও তাকে পদায়ন করা হয়েছে দূরবর্তী বিদ্যালয়ে।
তিনি বলেন, আসামপুর গ্রামের বিদ্যালয়ের শূন্যপদ ছাড়াও পাশে রয়েছে কবিরপুর ও সাতহাল চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ে পদায়ন না করে অন্য বিদ্যালয়ে পদায়ন করার মানে বুঝতে পারলাম না। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন বলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পদায়নে আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পদায়ন করায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পঞ্চানন বালা বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এবার পদায়ন করা হয়েছিল। জগন্নাথপুর উপজেলার শিক্ষক পদায়নে কিছু সমস্যার কথা আমরা অবহিত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে পদায়নের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।