প্রার্থী ভোটার কারোরই আগ্রহ নেই

বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী ১৭ এপ্রিল সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা পরিষদের ৩ কেন্দ্রের পূনঃনির্বাচন। স্থানীয় ভোটার এবং প্রতিদ্বন্দ্বি দুই প্রার্থী-ই বললেন এই ভোট নিয়ে জনআগ্রহ কম। ভোটারের উপস্থিতি একেবারেই কম হবে। এছাড়া ধান কাটার ভরা মওসুমে জমিতে পাকা ধান রেখে ভোটারর ভোট কেন্দ্রে যাবে না।
গত ১০ মার্চ শাল্লা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন ৩৬ কেন্দ্রের মধ্যে ইয়ারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আনন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এই তিন কেন্দ্রে ৭ হাজার ৩৫১ ভোট। চেয়ারম্যান পদে নিকটতম প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ৬৬৭। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন চৌধুরী পেয়েছিলেন ২৪ হাজার ৯৮০ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৩০৩ ভোট।
স্থগিত হওয়া আনন্দপুর কেন্দ্রের আনন্দপুর গ্রামের ভোটার অনিক রায় বলেন,‘ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট নয় মানুষ, এর মধ্যে ধান কাটাও শুরু হয়ে যাবে, পাকা ধান জমিতে রেখে কেউ ১৭ এপ্রিল ভোট দিতে যাবে না।’ একই কেন্দ্রের রামপুর গ্রামের ভোটার কৃপেশ দাস একই ধরনের মন্তব্য করলেন।
এই উপজেলার নির্বাচনের ৫ দিন পর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস উপজেলার ১৪ টি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছিলেন।
বুধবার নির্বাচন কমিশন কেবল স্থগিত ৩ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণের ঘোষণাকে ‘অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করলেন অবনী মোহন দাস। বললেন,‘এটি একজন প্রার্থীকে জয়ী করানোর জন্য আগের মতোই স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পিত ছক।’
অবনী মোহন দাস বলেন,‘নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না বলে আমি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি। অথচ. গত ৮ এপ্রিল কেবল স্থগিত ৩ কেন্দ্রে এসে তদন্ত করা হয়েছে। ২ দিন পর ঘোষণা হয়ে গেল ৩ কেন্দ্রে পূনঃনির্বাচন। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করেই ঘোষণা হলো নির্বাচন।’ ধান কাটার এই ভরা মওসুমে ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আল আমিন চৌধুরী কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হবে মন্তব্য করে বলেন,‘‘নির্বাচনে আকর্ষণ নেই মানুষের। আমি স্থগিত তিন কেন্দ্রের গ্রামগুলোয় গিয়েছি, ভোটাররা বলেন, পাসতো আপনি করবেনই, ভোট দিয়া কী হবে? ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণাকে অবনী মোহন দাসের অবাস্তব বলা প্রসঙ্গে আল আমিন চৌধুরী বলেন,‘নির্বাচন ঘোষণা নির্বাচন কমিশন দেয়, আমি এই প্রসঙ্গে বলার কেউ নয়।’ তবে পরাজিত হলে অভিযোগ বাড়তেই থাকে। পরাজয় সহ্য করতে হবে। আমিও বিগত উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। অভিযোগ করিনি।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন,‘ধান কাটা যখন ছিল না তখনও ভোট প্রদান করেছেন ৩৫ শতাংশ ভোটার, এবার প্রার্থীরা ভোটার আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে। তদন্তের সঙ্গে ভোট ঘোষণার কোন সম্পর্ক নেই। তদন্ত করা হয়েছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কেউ কেন্দ্রে সমস্যা সৃষ্টি করেছিলেন কী-না। কোন অপরাধ করেছিলেন কী-না, এসব যাচাইয়ের জন্য। এসব প্রমানিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।’