প্রয়াত বিপ্লবী বরুণ রায়’র জন্মশতবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রয়াত বিপ্লবী বরুণ রায়ের জন্ম শততম জন্ম বার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ১০ নভেম্বর তিনি জন্মেছিলেন ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনার এক ঐতিহ্যবাহী ও আলোকিত জমিদার পরিবারে। তাঁর প্রকৃত নাম প্রসূন কান্তি রায়। তার পিতামহ রায় বাহাদুর কৈলাস চন্দ্র রায় বিহার রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি ছিলেন।
বরুণ রায়ের পিতা করুণা সিন্ধু রায় বিরাট জমিদার হলেও কৃষকদের দাবি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। প্রজাস্বত্বের নেতা হিসেবে করুণা সিন্ধু রায় কৃষকের মাঝে অমর হয়ে আছেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে বরুণ রায় ১৯৪২ সালে ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টির পূর্ণ সদস্য পদ লাভ করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৪৮ সালে সিলেট জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৫০ সালে সিলেট জেলা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। ওই বছরই জেলা কমিটির সদস্য, ১৯৬৬ সালে জেলা সম্পাদক ম-লীর সদস্য এবং ১৯৬৮ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া কৃষক সমিতির জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক ফরমান জারি করলে বরুণ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দীর্ঘ ৫ বছর কারাগারে থাকতে হয়। ১৯৬৮-৬৯ সালে গণ আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা থেকে বিরত থাকেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের’ যৌথ গেরিলা বাহিনীর সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮০ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৫ দলের প্রার্থী হিসাবে) কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসাবে তিনি সুনামগঞ্জ- ১ আসন থেকে জয়লাভ করেন।
জীবনের ১৪ বছর নির্জন কারাবাসে কাটিয়েছেন পাকিস্তানি অন্ধকার যুগের নন্দিত জননেতা বরুণ রায়।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে সুনামগঞ্জ শহরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী নারীনেত্রী শীলা রায় সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আর একমাত্র পুত্র সাগর রায় বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী।
বিপ্লবী বরুণ রায় জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বরুণ রায় জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আয়োজনে সুনামগঞ্জ শহরে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান চলছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিন অনুষ্ঠিত হবে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, জন্মশত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, জাতীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।