প্রয়াত মানিক লাল রায়ের ‘বিদ্রোহী ভৃগু’ নিয়ে সিলেটে স্মরণ অনুষ্ঠান আজ

সিলেট অফিস
প্রয়াত মানিক লাল রায় সুনামগঞ্জে গণমুখী শিক্ষা ও গণরাজনীতির প্রচারে মানিক লাল রায় বিভিন্ন সময়ে প্রচারপত্র প্রকাশ করতেন। এ রকম একটি প্রচারপত্র ছিল ‘বিদ্রোহী ভৃগু’। ১৯৯৭ সালে এটি প্রকাশ হয়েছিল। গত ২৬ জুলাই তাঁর মৃত্যুর পর বিদ্রোহী ভৃগু নিয়ে সিলেটে এক স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সিলেট নগরের পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় বাতিঘরে ‘বিদ্রোহী ভৃগু’ শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠান হবে মানিক লাল রায়ের সিলেটে অবস্থানরত প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের আয়োজনে।
মানিক লাল রায়ের জন্ম ১৯৪৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর। ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর ছিল তাঁর ‘গণমুখী শিক্ষা’ আর গণরাজনীতিকাল। জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও কৃষক সংগ্রাম সমিতির সংগঠক ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ‘চাষী’ নামের একটি প্রকাশনা (বুলেটিন) সম্পাদনা করে হাওরে ভাসান পানির আন্দোলন সংগঠিত করেন। ১৯৯১ সালে ‘নাগরিক অধিকার’ প্রকাশ করে সরকারের ভ্যাট প্রথার বিরোধিতা করেন। এরপর ১৯৯৭ সালে বের করেন ‘বিদ্রোহী ভৃগু’। তিনটি প্রকাশনায় তিনি ‘কদম আলী চাষী’ ও ‘আ: সালাম ভদ্র’ নামে লেখালেখি করেছেন। ১৯৭১ সালে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ গেরিলা বাহিনীর মাধ্যমে ভারতের প্রশিক্ষণ শিবির থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর কাছে সংরক্ষিত ছিল ‘১৯৭২ মূল ওসমানী মুক্তিযোদ্ধা সনদ’। কিন্তু কাঙ্খিত মুক্তি এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় কখনও কোনো সুযোগ-সুবিধা নেওয়া বা মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য আবেদন করেননি।
আয়োজকেরা জানান, মানিক লাল রায় সর্বশেষ বিদ্রোহী ভৃগু প্রকাশ করে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় অনেকটা অবসর জীবনযাপন করছিলেন। বিদ্রোহী ভৃগুসহ তাঁর জীবন নিয়ে মানিক লাল রায়ের ছেলে অপূর্ব অনির্বাণের একটি লেখা নিয়ে নতুন করে প্রকাশ করা হয়েছে বিদ্রোহী ভৃগু। প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন শিল্পী অরূপ বাউল। প্রকাশ করেছে সিলেটের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘চৈতন্য’।
অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বিদ্রোহী ভৃগু উন্মোচন করবেন একুশ পদকপ্রাপ্ত সুষমা দাস। প্রয়াত মানিক লাল রায়ের গণরাজনীতি ও গণমুখী শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করবেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি গবেষণারত অপূর্ব অনির্বাণসহ মানিক লাল রায়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।