ফসল ঘরে তুললেই প্রধানমন্ত্রী খুশি হবেন-পানিসম্পদমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি
পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন,‘মানুষের পক্ষে যেটুকু করা সম্ভব, সেটুকু মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কঠোর মনিটরিং ও নির্দেশে এবার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য করা হয়েছে। এখন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে নিতে হবে।’ তিনি বলেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকাও দিয়েছেন, মাস্তানও পাঠিয়েছেন, প্রথম মাস্তান আমি, এরপর সচিব, আর প্রতিমন্ত্রী তো আছেনই। আমরা চেষ্টা করেছি। বলেছিলাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসবো। সেটি করেছি।’
বুধবার দুপুর দেড়টায় হাওরের কৃষক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সঙ্গে হাওররক্ষা বাঁধ নিয়ে মতবিনিময়ের সময় পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন,‘মতবিনিময় সভায় সকলেই বলেছেন বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে এখানকার মানুষের ধারণা ছিল- ‘বর্ষার আগে টাকা দেয়, তিন মাসে সেই টাকা শেষ করে নেয়।’ এবার সেই দুর্নাম গুছানোর চেষ্টা হয়েছে।’’ তিনি হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বিআর-২৮সহ কম মেয়াদের ধান আবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘ বেশি ফলন পাবার আশায় বেশি দিনে পাকে এমন জুয়া খেলা থেকে রক্ষা পেতে হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘এবার হাওর রক্ষা বাঁধ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য বার বার হাওরাঞ্চলে এসেছি, এখন ফসল ঘরে নিতে পারলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুশি হবেন, কৃষকদের মুখেও হাসি ফুটবে।’ পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন,‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি যে পরিমাণ কাজ করেছেন, সেই পরিমাণ টাকাই তারা পাবেন। টাকার জন্য এবার কাউকে চিন্তায় থাকতে হবে না।’
দুপুর ১২ টায় সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সাবিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, অ্যাডভোকেট শামছুন নাহার বেগম শাহানা এমপি। এছাড়াও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ্ খান, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম, এনজিও ব্যক্তিত্ব জামিল চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুশ শহীদ প্রমুখ।
মতবিনিময়ের শুরুতেই এবারে নির্মিত হাওর রক্ষা বাঁধের কার্যক্রম প্রজেক্টরের মাধ্যমে আলাদা আলাদাভাবে তুলে ধরেন জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া।