ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে দুর্ভোগের শিকার পথচারীরা

লিপসন আহমেদ
পৌর শহরের প্রধান সড়ক আলফাত স্কয়ার এলাকার উত্তরদিকের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকানপাট। বছরের পর বছর এ রকম চললেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।
অবৈধভাবে বছরের পর বছর ফুটপাত দখলে থাকায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সকল শ্রেণি পেশার পথচারীরা। ফুটপাত দখলে রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া যেন অলিখিত নিয়মেই পরিণত হয়েছে।
শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে উত্তর-দক্ষিণের গুরুত্বর্পূণ এই রাস্তায় শহরের সকল ধরনের যানবাহনসহ সকল পেশার লোকজন আসা-যাওয়া করেন ফলে এই রাস্তার দুই পাশে অবৈধভাবে দোকান পাট বসানোর ফলে সবসময় যানজট লেগেই থাকে।
ট্রাফিক জ্যামের কারণে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন স্টেশন রোড দিয়ে আসা যাওয়ায় পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পাশাপাশি শহরের পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে শতাধিক দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ দোকানই দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাত দখল করে।
তবে রাস্তার সামনে ফুটপাত দখলকারী অনেকে ফল ব্যবসায়ীরা দাবি বলেছেন, ‘আমরা এমনি এমনি এখানে বসিনি। যে জায়গায় আমরা বসেছি সেই জায়গার ভাড়া আমরা দৈনিক পরিশোধ করি। আমাদের মাল বিক্রি হোক আর না হোক ৫০০/৬০০ টাকা করে রোজ দেই আমরা। তাহলে এটাকে অবৈধ বলবেন কেন ? আর কেই বা আমাদের তুলে দেবে। কারণ আমরা যে জায়গায় বসি সেই জায়গার শক্তিশালী মালিক আছে।’
সরেজমিনে গত সোমবার পৌর এলাকার আলফাত স্কয়ার এলাকা, জগন্নাথ বাড়ি রোড, মধ্যবাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, উকিলপাড়া, কালীবাড়ি মোড়, ষোলঘর, ওয়েজখালীসহ বিভিন্ন এলাকার মূল সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানদার সামনের ফুটপাত দখল করে রেখেছেন। কেউ বেঞ্চ বসিয়ে, আবার কেউ দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর রেখে দখল বজায় রেখেছেন। এভাবেই মাসের পর মাস দোকানদারী করছেন।
তবে ফুটপাত সবচেয়ে বেশি দখলে রেখেছেন আলফাত স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) এলাকা। এখানে গোটা দশেক ফলের দোকান ফুটপাতকে পেছনে ফেলে মূল সড়কের উপর বসানো হয়েছে । কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন নানা শ্রেণির পথচারী।
শহরের হাজীপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ বানু বলেন,‘এমনিতেই রাস্তাগুলো অপ্রস্তত। অটোরিস্কা আর মোটরসাইকেল রাস্তার ওপরই সব সময় রাখা থাকে। ফুটপাত দিয়েও হাঁটার উপায় নেই। ফুটপাতগুলো দোকানিরা দখল করে রেখেছে। ফুটপাত দখল করায় আমাদের চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।’
শহরের শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা শামছুল হক বলেন,‘ফুটপাত দূরে থাক, ট্রাফিক পয়েন্টের মোড় ও বাজার এলাকায় রাস্তা দিয়েও হাঁটা যায় না।’
নিত্যপণ্যের দোকান সৌদিয়া স্টোরের মালিক হাজী মো: গিয়াস উদ্দিন বলেন,‘ আমাদের দোকানের জায়গা সীমিত। তাই বাধ্য হয়েই দোকানের সামনের ফুটপাতে মালামাল রাখতে হয়।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, এভাবে ফুটপাতের উপর মালামাল রাখাটা তাঁদের ঠিক হচ্ছে না। সবাই যদি তাদের দোকানের সামনে থেকে মালামাল সরিয়ে নেয় তাহলে তিনিও সরিয়ে ফেলবেন বলে জানান।
ফুটপাতে বসে থাকা ফল বিক্রেতা জাহিদ শেখ বলেন,‘ পৌর কর্তৃপক্ষ যখন আমাদের সরে যেতে বলেন তখনই আমরা সরে যাই। তারপর পেটের দায়ে আবার দোকান নিয়ে বসি।’ জীবিকার তাগিদেই এ কাজ করেন বলে জানান এই ফল বিক্রেতা।
পৌরসভার মেয়র নাদের বখ্ত দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন,‘ আমি চাই শহরের সকল রাস্তা ও ফুটপাত মুক্ত থাকুক। সড়ক থাকবে নিরাপদ ও যানজটমুক্ত। যাতে লোকজন নিরাপদে চলাচল করতে পারেন। তবে এই কাজে সকল শ্রেণি পেশার লোকজনকে এগিয়ে আসতে হবে। পৌর কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। রাস্তা ও ফুটপাত মুক্ত করতে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ’