ফুল স্পিড ইন্টারনেট প্রতিদিন নয় কেন?

নির্বাচনের দিন ফুল স্পিডে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার জন্য মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্বাচন কমিশন সচিব অনুরোধ জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়। এছাড়া সোসাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে যাতে কেউ নির্বাচন বানচাল বা প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে তথা যাবতীয় প্রোপাগান্ডা রোধে বিটিআরসিকে সার্বক্ষণিক তদারকি চালু করার জন্যও তিনি অনুরোধ করেছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবের ‘ফুল স্পিডে’ শুধুমাত্র নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুরোধ কেন? অন্যদিন তথা প্রতিদিনই ফুলস্পিড ইন্টারনেট নয় কেন এই প্রশ্নের সাথে যে সত্যটি বেরিয়ে আসে সেটি হল, মোবাইল অপারেটরগুলো কোনদিনই ফুল স্পিডে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছেন না। দিচ্ছে না যে সেটি ব্যবহারকারীরা প্রতি মুহূর্তে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। নেট ব্যবহার করে কোন কাজ করতে গেলে সময় ও ধৈর্যের যে পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় ব্যবহারকারীকে, তা এককথায় অসহনীয়। মোবাইল কোম্পানিগুলো ঘটা করে ৪জি নেটওয়ার্ক চালুর ঘোষণা দিয়ে দেশবাসীর কান ও চোখ ঝালাপালা করে দিয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের বিজ্ঞাপনের বদৌলতে যে কেউ ধারণা করতে পারেন এই দেশের ইন্টারনেট সেবা কতই না আধুনিক ও দ্রুত গতিসম্পন্ন। কিন্তু যেই আপনি ব্যবহার করতে গেলেন তখনই দেখা যায় ওইসব বিজ্ঞাপন কেবলই প্রতারণার ফাঁদ মাত্র।
মোবাইল কোম্পানির ইন্টারনেটের কচ্ছপগতির সাথে আরও বহু গ্রাহক ঠকানোর কৌশল কার্যকর রয়েছে। তারা কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবা গ্রহণের এমনসব প্যাকেজ ঘোষণা করে যা লোক ঠকানোর অভিনব কৌশল। কিছুদিন আগে সরকার সকল অপারেটরের জন্য অভিন্ন কলরেট ঘোষণা করলেও বাস্তবে তথাকথিত মাকড়সার জালের মতো জটিলতায় ভরা প্যাকেজের কারণে এই অভিন্ন কলরেটের মর্ম উপলব্ধি করতে পারছেন না কেউ। বিটিআরসি এইসব নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও কার্যত তাদেরকে মোবাইল কোম্পানির কাছে আত্মসমর্পন করতে দেখা যায়। বিটিআরসি এই জায়গায় বেসরকারি খাতের মোবাইল সেবাকে বাঁধাহীন করে দিয়েছে। সরকারি মোবাইল নেটওয়ার্ক টেলিটক কেন অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তা বুঝার মত বুদ্ধি দেশের অনেকের ঘটেই রয়েছে। টেলিটকের মাধ্যমে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক ঠকানো ও হয়রানি কমানো যেত বাজার ব্যবস্থার নিয়ম মেনেই। কিন্তু সুকৌশলে টেলিটককে অকার্যকর করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এমন অকর্মন্য করে রাখার পিছনে বিটিআরসি ও টেলিটক পরিচালনাকারীদের দায় উচ্চমাত্রার দুর্নীতিজনিত অপরাধ হলেও এ নিয়ে কোথাও কোন আলোচনা নেই। এমন অবস্থায় নির্বাচন কমিশন সচিবকে যখন শুধু একটি দিনের জন্য ইন্টারনেটের স্পিড বাড়ানোর জন্য কাকুতি মিনতি করতে হয় তখন সত্যিই আমরা সচিব মহোদয়ের প্রতি সহনাভূতিশীল হই। তবে তাঁর এই অসহায় অবস্থা আমাদের ডিজিটাল বাস্তবতার যে চিত্রটি উদঘাটিত করে তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর রাশ টেনে ধরা জরুরি।
দেশকে ডিজিটাল করতে হলে এই ব্যবস্থার মৌলিক উপাদান ইন্টারনেট সেবাকে অবশ্যই সহজলভ্য ও সুলভ করতে হবে। ইন্টারনেট পরিসেবার মূল নিয়ন্ত্রণভার অবশ্যই সরকারের হাতে রাখতে হবে। এখন সেবার যে মান ও মাত্রা বিদ্যমান তা দিয়ে কখনও নেটভিত্তিক পরিসেবা কাঠামোর সর্বতো উন্নয়ন সাধন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচন কমিশনারের কথাটি একটু ঘুরিয়ে আমরা বলতে চাই, প্রতিদিনই ফুল স্পিডে ইন্টারনেট সেবা ব্যবস্থা চালু করা হোক।