বই পরম বন্ধু

সবিতা বীর
মানুষের কত রকম শখই না আছে।কারো শখ বই পড়া কারো শখ বাগান করা আবার কারো শখ সারারাত জেগে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা, কারো দেশ ভ্রমণ করা। তবে যত শখই থাকুক না কেন সবচেয়ে ভাল শখ হচ্ছে বই পড়া। বই পড়লে অনেক অনেক কিছু জানা যায়। বই পরম বন্ধু বই পড়লে আনন্দ প্ওায়া যায়। বই মানুষকে কখনও হাসায় আবার কখনও কাঁদায়। তবে বই কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না।তাই বই এর কোন বিকল্প নেই।
পৃথিবীতে যত বড় বড় মনীষি রয়েছেন তাদের মধ্যে বই পড়ার প্রবণতা ছিল খুব বেশী । তারা বই পড়ে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তারা তাদের বিশাল জ্ঞানভান্ডার এর জন্য বই এর কাছে ঋণী। প্রতিদিন বই পড়তে হবে। বই পড়াকে ভালবাসতে হবে। আজকাল অনেকেই ধৈর্য্য নিয়ে বই পড়তে চায় না। কিন্তুু যারা ধৈর্য্য নিয়ে বই পড়ে তারা অনেক কিছু জানতে পারে শিখতে পারে। এজন্য বলা হয়ে থাকে ধৈর্য্য ধরা কঠিন কিন্তুু এর ফল মিষ্টি। তবে এটাও ঠিক বই পড়া অভ্যাস হয়ে গেলে বই না পড়লে একটুও ভাল লাগবে না। বই পড়ার মত এত সুন্দর ্একটা অভ্যাস অবশ্যই গড়ে তোলা দরকার। আজকাল ছেলেমেয়েরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
তাই বাড়িতে বাবা-মাকে অবশ্যই বই পড়তে হবে। কারণ বাবা মা -ই হল সন্তানের প্রথম ্ও প্রধান শিক্ষক। কারণ সন্তানেরা সবসময় বাবা-মাকে অনুসরণ করে। প্রত্যেক বাবা মার উচিৎ হবে সন্তানদেরকে ভাল ভাল বই উপহার দেয়া । প্রত্যেক বাড়িতে যার যার সাধ্যমত পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা। তাহলেই একদিন বই হবে আমাদের সবার পরম বন্ধু। এবং জাতি হিসাবে আমরা হর এক উন্নত জাতি।
একটা ভাল বই পড়লে তা থেকে যে আনন্দ পাওয়া যায় সেই আনন্দ অতুলনীয়। যে ভাল ভাল বই পড়ে সেই সে আনন্দ পেয়ে থাকে। সেই ভাল ভাল বই পড়ার আনন্দ যেন সবাই পেতে পারে এবং সবাই যেন সুন্দর সুস্থ জীবন কাটাতে পারে বই পড়ার মধ্যে দিয়ে। তাহলেই দেশ হবে সন্ত্রাসমুক্ত । সোনার বাংলায় সোনার ছেলেমেয়েদের জয়জযকার হবে।
বই পড়লে জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। আলোকিত মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলা যায়। জীবনকে সুন্দর ভাবে বিকশিত করতে হলে বেশী বেশী বই পড়তে হবে। বইকে যে পরম বন্ধু হিসাবে নিতে পারে সেই আলোকিত মানুষ হতে পারে। ভাল বই পড়লে যে আত্মতৃপ্তি আসে সেটা থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিৎ নয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ বই কেনা, বই পড়া এবং প্রিয়জনকে বই উপহার দেয়া। বই পড়লে মনের দুঃখ কষ্ট থেকে দূরে থাকা যায়। বইকে ভালবাসলে বই পড়ে আনন্দ পাওয়া যায়। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের আত্মিক উন্নতি ঘটানো যায়। বই পড়া মানসিক চাপকে কমিয়ে দেয় এবং ভাল ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। জ্ঞান অর্জনের জন্য বই পড়তেই হবে। যে যত বেশী বই পড়বে সে তত বেশী জানবে এবং সে তত বেশী উন্নত হবে। প্রত্যেকের উচিত আত্মিক উন্নতি লাভের জন্য এবং জীবনকে আলোকিত করার জন্য বইকে পরম সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা।
লেখক: প্রভাষক, দিগেন্দ্র বর্মন ডিগ্রি কলেজ, বিশ্বম্ভরপুর ।