বখাটেদের উৎপাত আতংকে ছাত্ররা

পুলক রাজ
নানা সমস্যায় জর্জরিত সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মুসলিম ও হিন্দু ছাত্রাবাসের অর্ধশত শিক্ষার্থী। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এই ছাত্রাবাসে কম খরচে অবস্থান করে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। কিন্তু বখাটের উৎপাতসহ নানা কারণে তাঁরা সঠিকভাবে পাঠ গ্রহণে মনোনিবেশ করতে পারছেন না। সব সময় আতংকে থাকতে হয় এই শিক্ষার্থীদের।
ছাত্ররা জানান, এলাকার বখাটে ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের উৎপাত প্রতিনিয়তই সহ্য করতে হয় তাদের। বারান্দার গ্রীল জরাজীর্ণ ও গেটে কোনো নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় অনায়াসে এখানে প্রবেশ করে বখাটেরা। ছাত্রদের সাইকেলসহ নানা জিনিসপত্র প্রায়ই চুরি যায়। এদের দ্বারা নির্যাতিত হয় ছাত্ররা। রুম থেকে ছাত্রদের বের করে দিয়ে বখাটেরা মাদক সেবন সহ অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয় প্রায়ই। প্রতিবাদ করলে বখাটেদের মারধরের শিকার হতে হয় তাদের। এ কারণে দিন দিন কমছে ছাত্রাবাসে শিক্ষাথীর সংখ্যা। নিরাপত্তাহীনতায় ছাত্রদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় খবর পেয়ে পুলিশ আসলেও বখাটেদের দৌরাত্ম থামছে না। এদিকে ছাত্রাবাসের প্রায় সকল কক্ষের দরজা, জানালা ভাঙা। ঝড়-বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই বইপত্র, পোষাক, বিছানা ভিজে যায়। পুকুরের দূষিত পানিতে গোসল করে অনেকে চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়াও ছাত্রাবাসে খাবার পানি, বিদ্যুৎ, টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। ছাত্রাবাস সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তিন বছর ধরে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
শিক্ষার্থী মো. কবির হোসেন বলেন, ছাত্রাবাসে প্রতিটি রুমের দরজা, জানালা ভাঙা। হালকা বৃষ্টি হলেই পানি চলে আসে রুমের ভিতরে। বই-পত্র, বিছানা ভিজে যায়। বারান্দার গ্রীল একদম দুর্বল, মনে হয় ধাক্কা দিলে ভেঙে যাবে। পুকুরের পানি দূষিত। আমরা এই দূষিত পুকুুরে গোসল করি। এতে অনেকের চর্ম রোগ হচ্ছে। ছাত্রাবাসের বাথরুমের দরজা ভাঙা, দরজা নাই বললে চলে। নেই সিলিং ফ্যান। চারপাশে ময়লা-আবর্জনার জন্য মশা তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ছাত্রাবাসে সুপেয় পানিরও সমস্যা রয়েছে।
শিক্ষার্থী এনামুল হক ইমন বলেন, ছাত্রাবাসে বিদ্যুতের সমস্যা। গ্যাস লাইনে লিক। ভয় লাগে কখন যে আগুন লেগে যায়।
শিক্ষার্থী সুমন আহমেদ রিফাত বলেন, খাবার পানিতে খুব বেশী আয়রন। ভূমিকম্প’র কারণে ভবনে ফাটল ধরেছে।
মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক ছাত্র মো. কাওছার আহমেদ জানালেন, ছাত্রাবাসের পরিবেশের সমস্যার কারণে অনেককে ছাত্রাবাস ছেড়ে যেতে হয়েছে।
হোস্টেল সুপার ও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো. সামছুদ্দিন বলেন, ছাত্রাবাসের পুরো ভবনে সমস্যা রয়েছে। বিদ্যুতের লাইনে সমস্যা। দরজা জানালা সব কয়টা ভাঙা। বাথরুমের অবস্থা খুবই খারাপ, দরজা নেই। ভবনের পেছনে গার্ডওয়াল না থাকায় বহিরাগত বখাটেরা প্রায়ই ছাত্রাবাসে আসে। ছাত্রদের বাইসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। অনেক সময় ছাত্রদের রুম থেকে বের করে দিয়ে গাঁজা নিয়ে রুমে ঢুকে যায়। অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। কোন কোন সময় খবর পেয়ে পুলিশ আসলেও বখাটেদের দৌরাত্ম থামছে না।
তিনি বলেন, ছাত্রাবাসে গেইটে একজন গার্ড খুব জরুরী। বখাটেদের যন্ত্রণায় হিন্দু ছাত্রাবাসের গেইট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সকল ছাত্ররা মুসলিম ছাত্রাবাসের গেইট দিয়ে আসা যাওয়া করে থাকে। ছাত্রাবাসে তিনটি বড় বড় গর্ত আছে। নোংরা পানি জমা থাকে সব সময়, তাই পরিবেশ দূষিত হয়ে আছে। মশা বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর তিন বছর ধরে ছাত্রাবাস সংস্কারের জন্য আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই নতুন করে ভবন সংস্কার করা হোক, তাহলে ছাত্ররা নির্বিঘেœ পড়াশোনা করতে পারবে।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ফয়েজুর রহমান বলেন, মুসলিম ছাত্রাবাসের ছাত্রসংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫ জন এবং হিন্দু ছাত্রাবাসের ছাত্র সংখ্যা ৭ থেকে ৮ জন। দীর্ঘদিন যাবত মেরামতের কাজ না হওয়ায় ছাত্রাবাসের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের লাইনের অবস্থা খারাপ। ছাত্রাবাসে সরকারি কোন কর্মচারী নেই। ছাত্রদের নিজের টাকায় বেসরকারিভাবে লোক রেখে ছাত্রাবাস চালাতে হয়। ছাত্রাবাসের পিছনে দেয়াল না থাকায় বহিরাগতরা অবাধ যাতায়াত করে।
তিনি বলেন, পুকুরের পাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো পুকুরে ময়লা আবর্জনা ফেলায়. পানি দূষিত হচ্ছে। ছাত্রাবাসের সামনের স্থানে কিছু গর্ত থাকায় ছাত্ররা খেলাধুলাও করতে পারে না।