বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ অনুসরণ জরুরি

একজন নেতা তার দৃঢ়তা ও সাহস দিয়ে একটি দেশ ও জনগণকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে আসীন করতে পারেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দীপ্ত উদাহরণ। তিনি তার আদর্শ ও আত্মত্যাগের কারণে ভালোবাসা পেয়েছেন দেশের সর্বস্তরের মানুষের। দেশপ্রেম, সততার জন্য বাঙালির কাছে তিনি শ্রদ্ধা ও সম্মানের। বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে যেমন বঙ্গবন্ধুকে চিন্তা করা যায় না, তেমনি বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিলে অর্থহীন হয়ে পড়ে বাংলাদেশও। শেখ মুুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের প্রায় অর্ধেক সময় কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। জেলে বছরের পর বছর বন্দি থেকেও নিজ সংকল্পে অটল থেকেছেন। তিনি আমাদের মুক্তির মহামন্ত্রে জাগিয়েছেন। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পথ ধরে জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যে। দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে চির আপসহীন ছিলেন তিনি। উপেক্ষা করেছেন পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু। কোনো কিছুর প্রলোভনে বা ভয়ে তিল পরিমাণ নতিস্বীকার করেননি।
ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। সত্তরের নির্বাচনে জাতির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এক পর্যায়ে আসে একাত্তরের ৭ মার্চ। সেদিন ঢাকার ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে তার ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের অনন্য মাইলফলক। তিনি তার যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত অর্জন এনে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। তাই তিনি সারাটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা ও ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছেন। বলেছেন দুঃখী ও দরিদ্রের অবস্থার পরিবর্তনের কথা। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি দেশ শাসনের সুযোগ পেয়েছিলেন। এ স্বল্প সময়ে তিনি ধ্বংসপ্রায় দেশটির পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি, অবদান রেখেছেন দেশের অর্থনীতিতেও। তাই তিনি সংবিধানেই স্থান দিয়েছেন দারিদ্র্যমুক্তির নির্দেশনা। তিনি বৈষম্য তাড়াতে ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল। ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার, শিল্প বিকাশে নতুন উদ্যোগ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়া, কৃষির আধুনিকায়নে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ, সমবায় চেতনা বিকাশে শুরু করেছিলেন নানা কার্যক্রম। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশের নাজুক অর্থনীতি মজবুত করতে নিয়েছিলেন নানা পদক্ষেপ। মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা, নারী জাগরণ কর্মসূচি ছড়িয়ে দিতে ছিলেন বদ্ধপরিকর। সাধারণ জনগণ, পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে গ্রহণ করেন নানা কার্যক্রম। তাই তার উন্নয়ন ভাবনায় ছিল ভবিষ্যৎ বিকাশের রেখা। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের সমন্বিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে দৃঢ়সংকল্প ছিলেন বঙ্গবন্ধু।